আলবিসেলেস্তেদের আটলান্টা রূপকথা: ০-২ থেকে ৩-২, মিশরকে বিদায় করে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

আটলান্টা, ৭ জুলাই ২০২৬
মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের ৬৮,২৩৯ দর্শকের সামনে আরেকটি বিশ্বকাপ ক্লাসিক লিখল আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ফিরে এসেছে অবিশ্বাস্যভাবে — স্কোরলাইন ৩-২। মেসি-ম্যাজিক, রোমেরোর হেড আর এনজো ফার্নান্দেজের যোগ করা সময়ের উইনারে টানা দ্বিতীয়বার কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল স্কালোনির দল।

ম্যাচের গল্প: দুঃস্বপ্ন থেকে উল্লাসে ১৩ মিনিট

১৫′ মিশরের চমক
ইয়াসের ইব্রাহিমের লাফিয়ে ওঠা হেডে এগিয়ে যায় ফারাওরা। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা চাপ তৈরি করলেও মোস্তফা শোবেইরের দুর্দান্ত সেভ আর দুবার পোস্টে লেগে ফেরা বল স্কালোনিকে হতাশ করে।

মেসির পেনাল্টি-দুঃস্বপ্ন
৩৭ মিনিটে পাওয়া স্পটকিকে শোবেইরকে পরাস্ত করতে পারেননি মেসি। এক আসরে দুবার পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় হয়ে গেলেন তিনি। হাফটাইমে ১-০ পিছিয়ে ড্রেসিংরুমে যায় আর্জেন্টিনা।

৬৭′ জিকোর কাউন্টার পাঞ্চ
সালাহ-হাইসেম হাসানের দুর্দান্ত কাউন্টারে মোস্তফা জিকোর ফিনিশ। ০-২। আটলান্টায় তখন ‘আপসেট’-এর গন্ধ।

৭৯′ রোমেরোর জাগরণ
মেসির নিখুঁত ক্রসে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড। শোবেইর হাত ছোঁয়ালেও বল জালে। ১-২। বেঁচে থাকল আশা।

৮৩′ অধিনায়কের জবাব
বক্সের ভেতর হাফ-ভলিতে মেসির গোলা। শোবেইরের হাতে লেগে ক্রসবারের নিচে লেগে বল জালে। ২-২। মিস পেনাল্টির যন্ত্রণা ধুয়ে দিলেন ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা — বিশ্বকাপে টানা নবম ম্যাচে গোল।

৯০+২′ এনজোর শিরোপা-সিল
দুর্দান্ত কাউন্টার থেকে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে লিড। ৩-২। পুরো স্টেডিয়াম তখন নীল-সাদা উৎসবে।

ট্যাকটিক্যাল টার্নিং পয়েন্ট

স্কালোনির ডাবল বদল ৬৬′ — পারেদেস ও ডি পলের বদলে নিকো গঞ্জালেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। প্রেসিং বাড়ে, মিশরের রক্ষণে ফাটল ধরে।
মিশরের ক্লান্তি — অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২০ মিনিট + টাইব্রেকার খেলে আসা হুসাম হাসানের দল শেষ ১৫ মিনিটে গতি হারায়। সালাহ হ্যামস্ট্রিং নিয়ে পুরো ছোটেননি।
সেট-পিসে আর্জেন্টিনা — দুটো গোলই এসেছে ক্রস/কর্নার থেকে। রোমেরো-এনজো দুজনই ৬ ফুট+ উচ্চতার সুবিধা নিয়েছে।
নায়ক ও খলনায়ক

লিওনেল মেসি: পেনাল্টি মিস করেও ১ গোল, ১ অ্যাসিস্ট। ‘যখন দল ২-০ পিছিয়ে, মেসি নিজেকে নিংড়ে দিয়েছে’ — টাইমসের লাইভ কমেন্ট্রি।
মোস্তফা শোবেইর: ৭টা সেভ করেও শেষ রক্ষা হয়নি। আলভারেজের পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক ঠেকিয়েছিলেন ৩৯ মিনিটে।
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো: গোল + রক্ষণে ৫ ক্লিয়ারেন্স। কামব্যাকের সূচনা তার হেডেই।
মোস্তফা জিকো: দুবার জালে বল পাঠিয়েও VAR-এ একটা বাতিল। তবু মিশরের সেরা পারফর্মার।
পরিসংখ্যান যেটা ম্যাচ বোঝায়

xG: আর্জেন্টিনা ৩.১১ – মিশর ০.৮৯। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার ১৪ শট, মিশরের ১।
পজেশন: ৭২% – ২৮%। শেষ ২০ মিনিটে মিশর বলই পায়নি।
মেসি: ৯টি কি-পাস, ৭টি সফল ড্রিবল। বিশ্বকাপে তার গোল এখন ২১।
সামনে কী
জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ ঠিক হবে সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া ম্যাচের বিজয়ী। স্কালোনি বলছেন, ‘কেপ ভার্দে আমাদের শিখিয়েছে কোনো ম্যাচ সহজ নয়’। মিশর বিদায় নিলেও ইতিহাস গড়ে গেল — অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথম নকআউট জয়, আর আজ চ্যাম্পিয়নদের কাঁপিয়ে দেওয়া ৭৯ মিনিট।

আটলান্টার রাতটা তাই আর্জেন্টিনার। পেনাল্টি মিস, ০-২ পিছিয়ে পড়া, VAR নাটক — সব পেরিয়ে শেষ বাঁশি বাজতেই আবারও সেই চেনা দৃশ্য: মেসির মুঠো পাকানো উদযাপন, গ্যালারিতে ‘মুচাচোস’ গান। বিশ্বকাপ বাঁচিয়ে রাখল তারা, আর ফুটবলকে উপহার দিল আরেকটি ‘কোথা থেকে কোথায়’ ফিরে আসার গল্প।

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ :
.

You might like

About the Author: priyoshomoy