

মাজহারুল ইসলাম (রুবেল) :
মাদারীপুরে শীত জেঁকে বসেছে। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শনিবার (০৭ জানুয়ারি) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টার পরও সূর্যের দেখা মেলেনি। অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। অনেকেই বিভিন্ন উপায়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

জেলার বেশ কয়য়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল গড়িয়ে গেলেও দোকান খোলেননি ব্যবসায়ীরা।তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার নদ-নদী অববাহিকার লোকজনের। গরম কাপড়ের অভাবে তীব্র শীতে ভুগছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকে খড়কোটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
জীবন-জীবিকার তাগিদে কনকনে শীতকে উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে জেলার খেটে খাওয়া মানুষের। এর মধ্যে জেলার কালকিনি উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকেরা ও শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর, বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ি, সন্নাস্যীরচর, চরজানাজাতের মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। এসব এলাকার আশপাশ জুড়েই পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুইদিন ধরে জেলার সর্বত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শীতের তীব্রতা থাকায় বিপাকে পড়ছেন কর্মজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। জেলার চরাঞ্চলের মানুষ আরও বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতের দাপটে সন্ধ্যার পরে ও বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বাজার শূন্য হয়ে যায়।
এদিকে দুই দিন ধরে শীতের কারণে মাঠ-ঘাটে ও ফসলের ক্ষেতে তেমন একটা দেখা যায়নি দিনমজুরদের।তাছাড়া জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে রিকশাভ্যান-ইজিবাইকের সংখ্যাও কমে গেছে। শীতের কারণে উপজেলায় শিশুদের রোগ বেড়েছে।
রাজৈর উপজেলা থেকে শিবচর উপজেলায় আসা স্কুলশিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, ‘সকালে এত ঠান্ডা আর কুয়াশা, সামনে কিছু দেখা যায় না। সেই সঙ্গে বইছে বাতাস। তাই আমাদের এখানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। এখানে যারা দিনমজুর তাদেরও অনেক ক্ষতি হচ্ছে। কারণ তারা ঘর থেকে বের হতে পারছে না।’
শিবচরের সন্ন্যাসীর চর এলাকার ইয়াছিন কাজী বলেন, ‘গত দুই দিন এলাকায় সূর্যের দেখা নেই। দুই দিন ধরে যেমন শীত তেমন বাতাস। বাতাসের কারণে ঘর থেকে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। আগে শীত আসলে অনেকে কম্বল দিতো, এখন তেমন দেয় না। প্রশাসন থেকেও কোনও সহযোগিতা পাইনি।’
কালকিনি উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা সাইমন বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে দুই দিন কাজে যাইনি। আজ নিরূপায় হয়ে কাজে বের হয়েছি। বাড়িতে গরম কাপড় নেই। কিন্তু ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজ না করলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’
শিবচর হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ হেল বাকী জানান, কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে ধীর গতি রয়েছে মহাসড়কে। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের টিম দায়িত্বরত রয়েছে।
মাদারীপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আব্দুর রহমান সান্টু জানান, শনিবার সকাল ১০টায় মাদারীপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। গত তিন দিনের মধ্যে এটাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তবে দুই-তিন দিন পর তাপমাত্রা বাড়লেও পুরো জানুয়ারিজুড়ে আরও শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলার ৫৯টি ইউনিয়ন আর চারটি পৌসভায় ইতোমধ্যে ৩১ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে নতুন করে এক লাখ ২০ হাজার কম্বল চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। যেগুলো আবার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শীতার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’








