

হাকীম সিদ্দিকুর রহমান প্রামানিক :
আজ ১১ ফেব্রুয়ারী প্রতি বছরের ন্যায় আজ সার বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ইউনানী দিবস। মহান ইউনানি পণ্ডিত এবং সমাজ সংস্কারক হাকীম আজমল খানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ১১ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইউনানী দিবস পালিত হয়। তিনি নতুন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

বিশ্ব ইউনানী দিবসের মূল উদ্দেশ্য হল ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এর প্রতিরোধমূলক ও নিরাময়মূলক দর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া। এছাড়া অনুপ্রান এবং সহপান সম্বলিত ঔষধ প্রস্তুত ও প্রয়োগ করার অধিকার প্রত্যেক ইউনানী এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের সহজাত অধিকার। এটি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও উন্নত করতে ভূমিকা রাখা।
একটি ভেষজের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটিয়ে যখন তা সুস্থ মানবদেহে প্রয়োগ করা হবে এবং তার ঔষধি গুণাবলির প্রকাশ দেখা যাবে, তখন তাকে ওষুধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইউনানী ওষুধ হচ্ছে শক্তির আধার। কোনো ওষুধ বস্তুর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটিয়ে যখন শক্তিকরণ করা হবে, তখন তা ওষুধে রূপান্তরিত হবে। এ ওষুধ যখন রোগীর দেহে প্রয়োগ করা হবে, তখন তা আরোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এভাবে অনেক সাধারণ ভেষজ গুণাবলিহীন বস্তুও হোমিওপ্যাথিতে ওষুধে রূপান্তরিত হয়ে রোগীর জন্য আরোগ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ অ্যালোপ্যাথিক ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের দেশীয় ওষুধ শিল্পে বিপ্লব চলমান রয়েছে। দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদন হয় এবং বিশ্বের প্রায় ১১৩টি দেশে রফতানি হয়। এতো কিছুর পরও দেশে প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থার পাশাপাশি ইউনানি ,আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার উপরে এবং আন্তর্জাতিক বাজার ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশের উপরে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে সরকারি তালিকাভুক্ত ২৬৯টিরও বেশি ছোট-বড় ওষুধ কারখানা রয়েছে। যারা দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রফতানি করে আসছে। এর মধ্যে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনকারী অ্যালোপ্যাথিক ৯০০টি, ইউনানি ২৬৮টি, আয়ুর্বেদিক ২০১টি, হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমি ৭৯টি এবং হারবালের নয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অর্থাৎ অ্যালোপ্যাথির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য চিকিৎসাপদ্ধতিরও প্রসার বাড়ছে।
এই চিকিৎসাপদ্ধতির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে এই চিকিৎসার খরচ খুব কম। সব মিলিয়ে দেশের এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী মূলত অ্যালোপ্যাথি বাদ দিয়ে ইউনানী অন্যান্য চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। আর চিকিৎসকদের মতে, রোগী চিকিৎসা নিয়ে মানসিকভাবে সন্তুষ্ট থাকলে রোগমুক্তির পথ অত্যন্ত সহজ হয়। শুধুমাত্র কম খরচের দরুণ এই চিকিৎসা নিয়ে মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমে রোগমুক্তি হচ্ছে।
এছাড়া মানুষের গোপনাঙ্গের সমস্যা বা যৌন সমস্যা দূরীকরণে ইউনানী সাফল্য অ্যালোপ্যাথির চেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে মানসিক প্রশান্তির কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেন, যৌন সমস্যার বেশিরভাগই মানসিক সমস্যা। এক্ষেত্রে রোগীরা লজ্জাবোধ করে চিকিৎসকদের কাছে আসতে চান না। তারা হয় নিজে জেনে ওষুধ কিনে খান বা বিভিন্ন হার্বাল চিকিৎসাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়। এক্ষেত্রে অজস্র হয়রানির স্বীকারও হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিকল্প মেডিসিনের চিকিৎসক নিয়োগ পেয়েছেন৷ আরো চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে ৷ প্রতিটি জেলা হাসপতালে বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থা আছে ৷ উপজেলা হাসপাতালেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে ৷ সারা দেশে গ্র্যাজেুয়েট রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দেড় হাজারেও বেশি৷ এছাড়াও বাংলাদেশ বোর্ড অব ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদিক সিসটেমস অব মেডিসিন এর ওয়েব সাইটের তথ্য মতে কয়েক হাজার ডিপ্লোমা রেজিস্টর্ড চিকিৎসক রয়েছে। সরকারি হাসপাতালসহ বেসরকারি ভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে ৷
এই চিকিৎসার ইতিবাচক দিক হলো এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে৷ যেটুকু প্রতিক্রিয়া হয়, তা কাউন্টেবল নয়৷ এই চিকিৎসার খরচও অ্যালোপ্যাথিকের চেয়ে অনেক কম৷ এখন শৈল্য চিকিৎসায়ও অল্টারনেটিভ চিকিৎসা ব্যবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে৷ । শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বেই এখন বিকল্প মেডিসিনের চাহিদা বাড়ছে৷ মানুষ এখন চায় ন্যাচারাল ও পার্শ-প্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা । তাই স্বল্পমূল্যে সু-চিকিৎসা প্রদানই হোক বিশ্ব ইউনানী দিবোসের অঙ্গীকার
হাকীম সিদ্দিকুর রহমান প্রামানিক
বিইউএমএস , (এইচইউবি) এমপিএইচ (নিউট্রেশন)
প্রভাষক, চাঁদপুর ইউনানী তিব্বীয়া কলেজ
পুরানবাজার, চাঁদপুর।








