

মোঃ মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :
আধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থার যাঁতাকলে পড়ে ঐতিহ্যের ধারক হাতে ভাজা দেশি মুড়ি বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
এক সময় ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদু:খিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম আলোনিয়া, পূর্ব আলোনিয়া গ্রামে, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রূপসা, সুবিদপুর পুর্ব ইউনিয়ন ও গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম মুড়ির গ্রাম হিসেবে খ্যাত ছিলো। রমজান মাস আসলেই ওই গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই মুড়ি ভাঁজার ধুম লেগে থাকতো।

গিগজ ধানের মুড়ি, যার খ্যাতি ছিল সর্বত্র। কিন্তু কালক্রমে যান্ত্রিকতার ছোয়ায় হাতে ভাজা মুড়ির বাজার দখল হয়ে গেছে।
সংসার চালানোর তাগিদে পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শিবানি রানি দাস(৪০)। স্বামী সংসার, সন্তান সামলিয়ে ধান থেকে চাল, চাল থেকে মুরি ভাঁজা পর্যন্ত অভিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
শিবানি রানি দাসের পাশাপশি মুরি ভাজার উপর নির্ভর করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন আলোনিয়া গ্রামের আরো কয়েকটি পরিবার। সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে চাইলে, পলাশ দাস অভাব-অনটনের কথা বলে তিনি জনপ্রতিনিধিদের ওপর বিভিন্ন রকম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুড়ি ভাঁজা বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এ এলাকায় শত শত মুড়ি ভাঁজার লোক ছিলো। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনোরকম সহযোগিতা এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনরকম দান অনুদান না পাওয়ার কারণে ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাঁজা মুড়ি হারিয়ে যাওয়ার পথে।

বিনয় কৃষ্ণ দাস নামের একজন জানান, আমাদের ভাঁজা মুড়ি অত্যন্ত সুস্বাদু। বর্তমান বাজারে সচরাচর যে মুড়িগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো কেমিক্যালযুক্ত এবং যান্ত্রিকভাবে তৈরি। সরকারের সহায়তা পেলে এই শিল্প বাচানো সম্ভব’।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সুত্র জানায়, মুড়ি শিল্পের সাথে যারা জড়িত সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে তাদের জন্য কোন ধরনের আপাদত সহায়তার সুযোগ নেই।








