

নিউজ ডেস্ক : গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন ঘিরে একে একে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
ইতোমধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ছাত্র-জনতা হত্যার নারকীয় একাধিক ভিডিও। রোমহর্ষক সেসব ভিডিও দাগ কাটছে সবার মনে। অন্যদিকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের স্বজনরা মাসখানেক পরও ট্রমার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়লে ঢাকার অন্যান্য এলাকার মতো যাত্রাবাড়ীতেও বের হয়েছিল বিজয় মিছিল। সেদিন লাখো জনতা যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সাধারণ মানুষ মৃত-আধমরা নিথর দেহ ভ্যানে তুলে নিয়ে যান হাসপাতালে। খবর চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের
সেদিন যাত্রাবাড়ীর ওই মিছিলে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান ইমন গাজী। মাসখানেক পর ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় ইমনকে। রক্তভেজা নিথর দেহে প্রাণ তখনও ছিল। তবে যাত্রাবাড়ী থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি ইমনকে। ভ্যানে থাকা অন্যদেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ইমনের পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও চার সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ছোটজনের বয়স ১৪ মাস। আর বড় মেয়ের বয়স ১২ বছর। ইমনকে হারিয়ে এখনো ট্রমার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন তার স্ত্রী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রাতে আমার ঘুম আসে না। দিনেও একভাবে চুপকরে বসে থাকি। আমার মা আমাকে দেখে বলেন- এভাবে চললে ছেলে-মেয়েদের কে লালন-পালন করবে।
স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা এই গৃহবধূ বলেন, আমার স্বামী আমাকে বাইরে কোনোদিন কাজ করতে বলেননি। এখন আমি আমাদের সন্তানদের লালন-পালনের উপায় দেখছি না।
যাত্রাবাড়ী এলাকার ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের মানুষ যেমন দেখেছেন, তেমনি ইমনকে রক্তভেজা অবস্থায় দেখেছে তার ছোট্ট সন্তানেরাও। কথা হলে ইমনের ছেলে জানায়, ভ্যানের ওপর আমার আব্বুকে দেখেছি তার গেঞ্জিতে রক্ত। অন্যদিকে ইমনের ১২ বছর বয়সী মেয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে, ‘ওরা (পুলিশ) আমার আব্বুকে কেমনে মারছে, আমার আব্বু কখনো কারও ক্ষতি করতো না। আমার আব্বুরে শুধু শুধু মারছে।
৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে যখন এমন মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয়, তখন ঢাকার আশুলিয়াতেও প্রায় একই ধরনের নির্মম ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ছোট্ট একটি ভ্যানে পুলিশ স্তূপ করে রাখছে কিছু মরদেহ। পরে রক্তাক্ত মৃতদেহগুলো ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাইরাল ভিডিওতে ভ্যানের পাশে দেখা যায় দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের। তাদের সবার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া গেলেও অনুসন্ধানে আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আরাফাত হোসেনকে চিহ্নিত করা গেছে।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটিও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দেখেছেন। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের এমন নির্মমতায় ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। আশুলিয়ার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, ছয়জনের লাশ এখানে ভ্যানে ওঠানো হয়। পরে ভ্যান দিয়ে পুলিশের গাড়িতে লাশগুলো তোলা হয়। তারপর পুলিশের গাড়িয়ে আগুন দিয়ে লাশগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়। আগুন নেভানোর পর অনেককেই চেনা যাচ্ছিল না। পরে আমরা কয়েকজনকে হাসপাতালেও পাঠাই।
প্রত্যক্ষদর্শী আরেকজন বলেন, ঘটনার পর মরদেহগুলোর মধ্যে আমতলা এলাকায় দুইজনকে কবর দেয়া হয়। আর চারজনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনায় এখনো ট্রমার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরাও। সে সময়ে লাশের সারির ভয়ানক সেই স্মৃতি ভুলতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তারা। যাত্রাবাড়ী এলাকার ৫ আগস্টের ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রিকশায় শুধু লাশ আর লাশ যেতে দেখেছি। এক হাত দূর থেকে এসে পুলিশ গুলি করছে, আর একটার পর একটা লাশ পড়ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী অপর একজন বলেন, ‘সত্যি বলতে, সেদিনের ভয়ানক স্মৃতি এখনো ভুলিনি। এখনো আমাকে ঘুমের ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। চোখ খোলা থাক কিংবা বন্ধ, এখনো লাশের সেই মিছিল দেখতে পাচ্ছি।’
রোববার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায়
৪ দফা দাবিতে সারাদেশে চিকিৎসকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের তিন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা। সেই সঙ্গে চার দফা দাবিও জানিয়েছেন তারা। দাবি আদায় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া কমপ্লিট শাটডাউন চলবে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সমাবেশে এসব দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শাটডাউনের আওতায় দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তারদের সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ থাকবে। এছাড়া বন্ধ থাকবে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও জরুরি অপারেশন।
তারা বলেন, দেশের সব জাতীয় বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশের সর্বস্তরের নার্সরা ফ্রন্টলাইনার হিসেবে নিরলসভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সমুন্নত রেখেছেন। বিভিন্ন সময় নার্সদের তাদের কর্মস্থলে অতর্কিত হামলা এবং লাঞ্ছনার শিকার হওয়া সত্ত্বেও রোগীদের স্বার্থে সার্বিক চিকিৎসা সেবা চলমান রেখেছেন। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলায় একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
যার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য সেবাকর্মীদের মধ্যে ভয়, আতংক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে এবং স্বাভাবিক নার্সিংসেবা তথা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত নার্সিংসেবা প্রদানের লক্ষ্যে চিকিৎসকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা চার দফা দাবি পেশ করে। দাবিগুলো হলো:
১. হাসপাতালের মতো একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যে সব ব্যক্তি বা কুচক্রী মহল এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
২. নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অবিলম্বে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পুলিশের (আর্মড ফোর্স) মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালে রোগীর ভিজিটর (ভিজিটর কার্ডধারী) ব্যতীত বহিরাগত ব্যক্তি বা মহল কোনোভাবেই হাসপাতালের ভেতর প্রবেশ করতে পারবে না, স্বাস্থ্য পুলিশের (আর্মড ফোর্স) মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
8. হাসপাতালে রোগীর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসঙ্গতি/অবহেলা পরিলক্ষিত হলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ প্রদানের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা যেতে পারে। তবে, কোনোভাবেই আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
এদিকে গতকাল শনিবার (৩১ আগস্ট) নিউরো সার্জারি বিভাগের তিন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে দোষীদের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেন চিকিৎসকরা। অন্যথায় ২৪ ঘণ্টা পর তারা কর্মবিরতিতে যাবেন বলে ঘোষণা দেন।
চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের তুলে দেওয়া হলো সেনাবাহিনীর হাতে
মধ্যরাতে খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ এলাকা থেকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে অন্য আরেক গ্রুপ চাপাতিসহ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে যায়। এ সময় হাতেনাতে চারজনকে আটক করে সেনাবাহিনীকে দেয় কর্তৃপক্ষ।
পরে অন্য আরেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইমার্জেন্সি সেন্টারে ভাঙচুর চালায় রোগীর স্বজনরা।
নিরাপত্তা শঙ্কায় জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। দোষীদের শনাক্ত করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের বিচারের দাবি জানান। অন্যথায় কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে আলটিমেটামের ২৪ ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই কর্মবিরতিতে যান তারা।
এ ঘটনায় রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন তারা।










