মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়ীবাঁধের ভিতর শিয়ালের অভয়াশ্রম

গোলাম নবী খোকনঃ

মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়ীবাঁধের ভিতর শিয়ালের উপদ্রব বেড়েই চলছে। মনে হচ্ছে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ভিতরে শিয়ালের অভয় আশ্রম। সেচ প্রকল্প ঘুরে এমনটাই জানা গেল। প্রকল্পের ভিতরও বাহিরে হাঁস-মোরগ লালন পালনকারীদের ঘুম একদম হারাম হয়ে গেছে, শিয়ালের উপদ্রবে ঘুমাতে পারছেনা মানুষ, কখন জানি কার খোয়ার থেকে শিয়ালের দল হাঁস -মুরগী নিয়ে যায়। মতলব উত্তরে কোথা থেকে আসলো শিয়ালের দল, থাকেই-বা কোথায় জনমনে প্রশ্ন। শিয়াল শুধু বেড়ীবাঁধের ভিতরেই নয়, বাঁধের বাহিরেও আছে। মতলব উত্তরে সকল গ্রামেই অসংখ্য শিয়ালের আবির্ভাব ঘটে। পূর্বেও ছিল অতোনা, হাতে গোনা। বেড়ীবাঁধ হওয়ায় বনজঙ্গল, রাস্তা ঘাট, বাড়িঘর, কবরস্থান এগুলো অনেক বেশী হওয়ায়, শিয়ালেরর প্রজনন বাড়িয়ে তারা সারা মতলব উত্তরে বিস্তার লাভ করছে।

শিয়াল মাটির নীচে গর্ত তৈরি করে কুঠুরি তৈরী করে নিরাপদ জায়গা মনে করে ঐ খানে বসবাস করতে ভালো বাসে। দিনের শেষে একটু রাত হলে শিয়ালের ডাক আর ডাক। তারা খাদ্য নিবারনের জন্য রাতে শিয়াল লোকালয়ে প্রবেশ করে গৃহস্থের খোয়ার থেকে কৌশলে হাঁস -মোরগ নিয়ে আহার করে। এদের উপদ্রবের কারনে অনেকেরই রাত জেগে থাকতে হয়। আর যাদের বাড়ি ঘর খালের পাড়, কবরস্থানের পাশে বিলে এবং যারা খন্ড খন্ড একলাশিরা বাড়ি ঘর করে বসবাস করে আসছে তাদের স্বাভাবিক ভাবে রাত্রি যাপন করতে পারছেনা, শিয়ালের ভয়েই রাত কাটাতে হয়। বর্তমানে যে ভাবে শিয়ালের উপদ্রব বেড়েছে, এগুলো দমন না করা হলে ভবিষ্যতে মানুষের চলাচলে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিয়ালের দল তাদের খাবার যোগাতে প্রতি রাতেই কোন না কোন বাড়িতে হানা দেয়।

এছাড়া তাদের ঘেউ ঘেউ, চেচামেচিতে মানুষ ভয়ে আতঙ্কে থাকে। যে ভাবে শিয়ালে হাঁস -মোরগ ক্ষতিগ্রস্থ শুরু করেছে, এমনটাই যদি হয়, তাহলে গৃহস্থরা হাসঁ -মোরগ লালন- পালন বন্ধ করে দিবে বলে এমনটাই জানা গেল। শিয়াল মানুষের জন্য উপকারী প্রাণী হলেও মানুষের ক্ষতির দিকটা অনেক বেশী। এক অনুসন্ধানে জানা গেল, শিয়ালের প্রধান খাদ্য হাঁস- মুরগী, ডিম। তাহলে মানুষের ও প্রধান খাদ্য মাংস ডিম ইত্যাদি।

এছাড়া তারা সরীসৃপ, কাঁকড়া, ইদুঁর, টিকটিকি ও কেচো আহার করে। যদি একটু বর্ননা দেই, (কেঁচো)ঃ উপকারী পোকা, কেঁচো চাষ করে কেঁচো দ্বারা জৈব সার তৈরি করা হয়। টিকটিকিঃ টিকটিকি মশা মাছি তাড়ায়। কাঁকড়াঃ মানুষে খায় এবং কাঁকড়ায় বিষাক্ত পোকা মাকঁড় খায়। হাঁস -মুরগী, ডিমঃ এগুলো মানুষের প্রধান খাদ্য। এগুলো মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী। তার পরে ইদুঁরঃ ইদুঁরের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। এটি বড় চতুর। এ ইঁদুর উপদ্রবের কারনে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের কৃষকের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছে আর বর্ষা মৌসুমে বেড়ীবাঁধ হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। কারনঃ বেড়ীবাঁধ বাঁধ সড়ক সহ বিভিন্ন সড়কে বাড়িতে কোন জায়গায় ইদুঁর না আছে। ইদুঁরের উপদ্রবের কারনে সকল ধরনের মানুষ অতিষ্ঠ।

সব চেয়ে ক্ষতি কারক প্রানী ইদুৃঁর। এদের থেকে সকলকে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে। সরীসৃপঃ (সাপ)- সাপ মানুষের জন্য উপকারী কোন কোন ক্ষেত্রে, সাপের হাড় দ্বারা কবিরাজরা ঔষধ তৈরী করে, আবার সাপের কামড়ে মানুষ মারাও যায়, সাপ প শিয়ালের খাদ্য, সে জন্য শিয়াল ও মানুষের জন্য কোন না কোন ক্ষেত্রে উপকারী প্রাণী। বিশেষজ্ঞদের মতে শিয়াল দক্ষিণ এশিয়া ইউরেশিয়া, মধ্যে প্রাচ্য এবং আফ্রিকা এদের দেখতে পাওয়া যায়। শিয়াল নিরাপদ স্থান পেলে মাটির নীচে গর্ত বানিয়ে থাকতে পারে। মাটির নীচে গর্তে অনেক মুখওয়াল কুঠুরি তৈয়ার করে বসবাস করে। বর্তমানে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়ীবাঁধের ভিতর শিয়ালের অভয় আশ্রম।

সোমবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায়

You might like