সরকারি অফিসে মালা খানের গোপন কক্ষ, সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক:
সম্প্রতি বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস্ (বিআরআইসিএম) এর সদ্য বিদায়ী মহাপরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খানের অফিসে গোপন কক্ষ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সেখানে পাওয়া অনৈতিক কাজের নানা উপকরণ। সরকারি অফিসে এমন গোপন কক্ষ কাণ্ডে হতবাক হয়েছেন নেটিজেনরা।

খবরে বলা হয়, মালা খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অফিস কক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর সাইন্সল্যাবে অবস্থিত বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টের ভবনের চতুর্থ তলায় অফিস ছিল তার।

তার সেই অফিস কক্ষের সাথেই একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে বিছানা এবং শারীরিক সম্পর্ক জনিত বিভিন্ন দ্রব্যাদি পাওয়া গেছে।

নাগরিক টেলিভিশনের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অফিসে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মালা খানের অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, মালা খানকে মাঝে মাঝে সেই গোপন কক্ষে যেতে দেখা যেত, অথবা হঠাৎ করে তার কক্ষে গেলে তাকে পাওয়া যেত না।

অফিসের সবাই এ বিষয়ে জানলেও এতদিন তারা মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। মূলত মালা খানের অফিসের পাশে যে গোপন কক্ষটি রয়েছে, সেটিতে বিআরআইএমসি-এর উপদেষ্টা রবীন্দ্রনাথ চৌধুরীও প্রবেশ করতেন। ওই কক্ষে পাওয়া গেছে খাট এবং সুসজ্জিত আসবাবপত্র।

অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও অভিযোগ করেন, মাঝে মাঝে তারা উপদেষ্টা রবীন্দ্রনাথ রায়-এর কক্ষে গেলে তাকে বিব্রতকর পোশাকে দেখতে পেতেন। উক্ত গোপন কক্ষটি রবীন্দ্রনাথ রায় এবং মালা খানের দুই কক্ষের মাঝখানে অবস্থিত ছিল এবং দুই কক্ষ থেকেই সেখানে প্রবেশ করা যেত। তবে কক্ষটির প্রবেশপথ এমনভাবে সুসজ্জিত ছিল যে, বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না যে সেখানে একটি দরজা রয়েছে।

এছাড়াও, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মালা খানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মালা খান অত্যন্ত ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত হন।

মালাখানের গোপন কক্ষ কাণ্ডে বিস্মিত হয়ে ফেসবুকে মিঠু বিশ্বাস নামে একজন লিখেছেন, অন্য দেশের বিজ্ঞানীরা পারমাণবিক অস্ত্র অথবা মহাকাশ গবেষণা- কত হাজার প্রকার গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থেকে আবিষ্কার করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। আর আমাদের বিজ্ঞানীরা অদৃশ্য রোমান্স ঘর আবিষ্কার করেছে এরাও নোবেল পাওয়ার যোগ্য। এদেরকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হোক।

মিসতারা খাতুন নামে আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, বাংলাদেশটা এমনি এমনি তেই ধ্বংস হয়ে যায়নি। গরিবের রক্তচোষা টাকা খেয়ে হাসিনা পালাইছে। প্রতিটা সেক্টরে স্বৈরাচার হাসিনা দুর্নীতি করেছে। এ জায়গায় হাত দেবেন সেই জায়গায় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে যাবেন। আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীরা জিরো থেকে আজ হিরো হয়ে গেছে এটা বুঝতে হবে কি জন্য হয়েছে।

You might like