চাঁদপুরে ৮ বছর ১১মাস বয়সী মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান

নিউজ ডেস্ক :

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল ৫ এপ্রিল ১৯৬২। সেই হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তার বয়স ৮ বছর ১১মাস। বয়স অনুসারে যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি শিশু থাকলেও বর্তমানে কাগজে কলমে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা! এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে চাঁদপুর শহরের মুন্সেফপাড়া যোগেশ চন্দ্র চক্রবর্তীর মেয়ে কৃষ্ণা সাহার বিরুদ্ধে।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরেও অসংখ্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ভাতা গ্রহণ করেছেন, এমন অভিযোগ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের।

কৃষ্ণা সাহাসহ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ স্বাক্ষরিত (০৫ ৪২ ১৩২২ ০০২ ০২ ০১৭ ২১ ৪৫৩ স্মারকে) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বয়স সংশোধন প্রসঙ্গে ১টি পত্র দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ৩০ মে ১৯৫৯ এর পূর্বে উল্লেখ করতে হবে জন্ম সাল । যাহা ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আদেশ করা হয়। অন্যথায় তাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হবে। এ সংক্রান্ত পত্র পেয়ে বয়স সংশোধন না করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা সাহার ভাতা বন্ধ করে দেন। এ ব্যাপারে একটি সাব কমিটিও করা হয়। সাব কমিটির প্রধান ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মৃণাল কান্তি সাহা।

কিন্তু যুদ্ধকালীন শিশু বয়সী কৃষ্ণা সাহা কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লেখালেন? অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৭ সালে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন কৃষ্ণা সাহা। তার এনআইডি নং ৫৫০ ৯৯৫ ৯০৫৫। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের একটি গেজেট কৃষ্ণা সাহার মুক্তিযোদ্ধার নম্বর:০১১৩০০০৪৪৬৮ । বিস্তারিত তথ্য মতে দেখা যায়, কৃষ্ণা সাহা পিতা -যোগেশ চন্দ্র চক্রবর্তী, মাতা- সবিতা চক্রবর্তী। বাসা- মুন্সেফ পাড়া, উপজেলা- চাঁদপুর সদর, জেলা চাঁদপুর। বর্তমানে তার এনআইডিতে জন্মসাল ১৯৬২ এবং সেই অনুসারে শিশু বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কৃষ্ণা সাহা।

অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিবাদের দোসর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ পাটোয়ারী ও মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ খানের সহায়তায় অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধা বনে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপুর সদর উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধা জানান, আমি শতভাগ নিশ্চিত করে বলছি কৃষ্ণা সাহা কোন মুক্তিযোদ্ধাই নন। এ ব্যাপারে উপজেলা সাব কমিটির যাচাই বাছাইয়ে তিনি বাদ পড়ে যান। ২০২৩ সালে তৎকালীন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণার ভাতা বন্ধ করে দেন। কিছুদিন পর হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ আসে কৃষ্ণার ভাতা পুনরায় চালু করার জন্য। জানা যায় বিভিন্ন স্থানে তদবির করে মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে ভাতা প্রদানে নিজের পক্ষে আদেশ আনেন।

কৃষ্ণা সাহা একজন সঙ্গীত শিল্পী। চাউর আছে তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে গান গাইতেন। কিন্তু এ ব্যাপারে শব্দ সৈনিকের তালিকায় তার নাম নেই। অপরদিকে শুধুমাত্র বীরাঙ্গনা ছাড়া কারো বয়স ১২ বছর ৬ মাসের নিচে গ্রহণ যোগ্য নয়।

এদিকে চাঁদপুরে দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণা সাহা আবার টিআইবির সদস্য ।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে চাঁদপুর সদর উপজেলা কমান্ডার আবুল কালাম চিশতীর সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৮ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০০৪ সালে এবং ২০২২-২৩ সালে অহরহ মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন অনেকেই। যাদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।

(সূত্র : দৈনিক ইনকিলাব)

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like