টাঙ্গাইল জেলা আইনজীবী সমিতি : চাপের মুখে সরলো আ.লীগ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতলো বিএনপি-জামায়াত

নাবিল শাহরিয়ার নাহিদ : টাঙ্গাইল জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে চাপের মুখে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও আওয়ামী লীগ-বিদ্রোহী প্যানেলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের সকল প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মোনায়েম হোসেন খান আলম বেসরকারিভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

এর আগে, বুধবার (২৯ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল এবং আওয়ামী লীগ-বিদ্রোহী প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিএনপি-জামায়াত-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিএনপি-জামায়ত-সমর্থিত প্যানেল থেকে এবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জহুর আজহার খান এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম রফিকুল ইসলাম রতন। ২০২৫-২০২৬ নির্বাচনে মোট ১৪টি পদে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিতদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে নির্বাচনে মোহাম্মদ শামস উদ্দিনের নেতৃত্বে আরও একটি স্বতন্ত্র প্যানেল মনোনয়নপত্র কিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে। একপর্যায়ে লীগ-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা চাপের মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে এই বিদ্রোহী প্যানেলের প্রার্থীরাও একই পথে হাঁটেন। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি-জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ক আইনজীবী সমিতিতে এসে আওয়ামী লীগ-সমর্থিতদের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি তুলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে বলেন। এ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার বিকালে আওয়ামী প্যানেলের সকল প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

আওয়ামী প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন ওয়ারেজ আলী মিয়া নান্নু ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুল ইসলাম শামীম। আওয়ামী বিদ্রোহী প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন মোহাম্মদ শামস উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া মামুন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দরখাস্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি, অসুস্থতা এবং পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইলের অন্যতম সমন্বয়কারী আল আমিন বলেন, ‘আমাদের চাওয়া ছিল, বিচার না হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা যেন (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা নির্বাচন করতে চাইলে করবে। সবাই সম্মিলিতভাবে আইনজীবী সমিতিতে গিয়েছিলাম। তবে প্রার্থীদের কারও সঙ্গে কথা হয়নি। শুধু আমরা নয়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক, এটা বিএনপি-জামায়াত কেউ চায় না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মোনায়েম হোসেন খান আলম বলেন, ‘যে সকল প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় তাদের আবেদনগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিধি মোতাবেক বিএনপি-জামায়াত-সমর্থিত প্যানেলের সকল প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।’এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নেতা অ্যাডভোকেট এ কে এম শামীমুল আক্তার কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা একাধিক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে না গেলে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই হয়রানি এড়াতে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৫১৬ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

এমআরআর

You might like