হিংসাকারী নিজেই নিজের অনিষ্ট করছে কীভাবে, জেনে নিন

ইসলাম ডেস্ক :

হিংসা এক ধরনের নীরব আগুন—যা প্রথমে জ্বালায় নিজের ভেতরটাকেই।

হিংসার মানসিক প্রভাব: আত্মবিধ্বংসী আগুন

হিংসা (envy বা jealousy) শুধু সম্পর্কের ক্ষতি করে না—এটি হিংসাকারীর মনোজগতে এক ধরনের বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। নিচে হিংসার কিছু গভীর মানসিক প্রভাব তুলে ধরা হলো:

অসন্তুষ্টি ও আত্মঅবমূল্যায়ন
– হিংসাকারী ব্যক্তি অন্যের সাফল্য বা সুখ দেখে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করতে শুরু করে।
– এতে আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং এক ধরনের স্থায়ী অসন্তুষ্টি জন্ম নেয়।

অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মানসিক অস্থিরতা
– হিংসা এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি করে—চাই না চাই, অন্যের ভালো দেখলে মনে হয় “আমি কেন পারলাম না?”
– এই দ্বন্দ্ব মানসিক শান্তি নষ্ট করে এবং উদ্বেগ বাড়ায়।

নেতিবাচক চিন্তার চক্র
– হিংসা মানুষকে বারবার তুলনা করতে শেখায়, যা থেকে জন্ম নেয় ঈর্ষা, রাগ, এবং হতাশা।
– এই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, এবং ব্যক্তি ক্রমাগত নেতিবাচক আবেগে ডুবে যায়।

সম্পর্কে ফাটল
– হিংসা বন্ধুত্ব, সহকর্মিতা বা পারিবারিক সম্পর্কেও বিষ ঢেলে দেয়।
– হিংসাকারী ব্যক্তি হয়তো মুখে কিছু না বললেও, তার আচরণে বিরূপতা ফুটে ওঠে।

আত্মপরিচয়ের বিকৃতি
– হিংসা মানুষকে নিজের আসল চাহিদা ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত করে।
– সে অন্যের জীবনের ছায়া অনুসরণ করতে গিয়ে নিজের পথ হারিয়ে ফেলে।

প্রতিকার কী?
– কৃতজ্ঞতা চর্চা : নিজের জীবনের ছোট ছোট ভালো দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া।
– স্ব-উন্নয়ন : অন্যের সঙ্গে নয়, নিজের আগের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা।
–  সহানুভূতি: অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
– মননচর্চা : দর্শন, সাহিত্য বা ধ্যানের মাধ্যমে নিজের মানসিক পরিসর বাড়ানো।

ইসলাম ধর্মে হিংসা (হাসাদ)-কে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও আত্মবিধ্বংসী গুণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে, কারণ এটি শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

কোরআনে হিংসা সম্পর্কে :
– সূরা ফালাক (১১৩:৫): “আমি আশ্রয় চাই হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।”_ এটি হিংসার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেয়।

হাদিস ও ইমামদের বাণী :
– ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন: “হিংসা ঈমানকে ধ্বংস করে, যেমন আগুন কাঠকে পুড়িয়ে ফেলে।”
(আল-কাফি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৬)

– ইমাম সাদিক (আ.)** বলেন: “তোমরা একে অপরকে হিংসা করো না, কারণ হিংসা কুফরের মূল।”_
(আল-কাফি, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৮)

– ইমাম আলী (আ.) বলেন: “হিংসুক কখনো মর্যাদা পায় না।” “হিংসুক সর্বদা শোকে নিমজ্জিত থাকে।”
(মেরাজুস সায়াদাহ)

– হযরত লোকমান (আ.)তাঁর পুত্রকে বলেন:“হিংসুকের তিনটি চিহ্ন: গীবত করে, তোষামোদ করে, এবং অন্যের বিপদে আনন্দিত হয়।” (আল-খেসাল, পৃষ্ঠা ১২১)

মূল বার্তা :
হিংসা কেবল অন্যের ক্ষতি চাওয়ার মানসিকতা নয়, বরং নিজের আত্মিক শান্তি ও ঈমানকেও ধ্বংস করে। ইসলামে হিংসা থেকে মুক্ত থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা, সহানুভূতি ও আত্মশুদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বুধ বার, ০২ জুলাই ২০২৫

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like

About the Author: priyoshomoy