

সম্পাদকীয়
মেহেরপুরের ওপর দিয়ে বইছে তীব্র শীতের দাপট। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের যৌথ আক্রমণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর এলাকার শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাবার সময় এসেছেÑআমরা কি কেবল নিজেদের উষ্ণতার আয়োজনে ব্যস্ত থাকব, নাকি আমাদের প্রতিবেশী অসহায় মানুষগুলোর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব?
শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন তারা, যাদের জীবিকা চলে দিন আনি দিন খাই হিসেবে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় ভোরে কাজে বের হওয়া রিকশাচালক, ভ্যানচালক কিংবা কৃষি শ্রমিকদের জন্য জীবন ধারণ এখন এক যুদ্ধের নাম। পেটের দায়ে তাদের কুয়াশাভেজা সকালে রাস্তায় নামতে হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের শারীরিক ভোগান্তি চরমে। একই সাথে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে।

মেহেরপুর একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে কৃষকরা শঙ্কায় আছেন। দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা ফসলের বড় ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে। শীত কেবল একটি ঋতু নয়, এটি আমাদের মানবিকতার পরীক্ষাও বটে। প্রশাসন ও বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহŸান। পুরানো কাপড় নয়, সদিচ্ছা দিন: আপনার অব্যবহৃত একটি কম্বল বা একটি সোয়েটার রাস্তার ধারের কোনো শীতার্ত মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে।
ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় তরুণদের নিয়ে তহবিল গঠন করে পাইকারি দরে শীতবস্ত্র কিনে বিতরণ করা যেতে পারে। বাড়ির আঙ্গিনায় খড়কুটো জ্বালিয়ে যারা শীত নিবারণ করছেন, তাদের পাশে অন্তত এক কাপ গরম চা বা সামান্য খাবার নিয়ে দাঁড়ানোও এক মহৎ কাজ।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এই কঠিন সময়ে কোনো মানুষ যেন খোলা আকাশের নিচে বা বিনা বস্ত্রে শীতের কষ্টে না ভোগে, তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তিশ্রেণির অংশগ্রহণই পারে মেহেরপুরের অসহায় মানুষের শীতের রাতগুলোকে কিছুটা উষ্ণ করতে। মনে রাখতে হবে, “মানুষ মানুষের জন্য”। আপনার সামান্য সহানুভ‚তিই হতে পারে একজন শীতার্ত মানুষের বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন।
রোববার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬















