

সোহেল আহমেদ ভূঁইয়া :
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ফুটওভার ব্রিজ যেনো আজ নীরব আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে। জেলা পরিষদের সামনে নির্মিত এই ব্রিজটি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য তৈরি হলেও বাস্তবে তা ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠেনি। দিনের বেলায় হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ ব্রিজটি ব্যবহার করলেও সন্ধ্যার পর থেকে এটি বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে ব্রিজে উঠতে সাহস পান না।
অন্ধকারে ভয়ের রাজত্ব
ব্রিজটিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। কয়েকটি লাইট থাকলে পরিস্থিতি অনেকটা বদলাতো। কিন্তু আলোহীনতার কারণে সন্ধ্যার পর ব্রিজটি অন্ধকারে ডুবে যায়। স্থানীয়দের মতে, এই অন্ধকারই বখাটেদের দখল নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা এখানে আড্ডা দেয়, অশালীন মন্তব্য করে এবং পথচারীদের বিরক্ত করে। ফলে নারীদের জন্য তো বটেই, সাধারণ পুরুষ পথচারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

পথচারীদের অভিজ্ঞতা
পথচারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দিনের বেলাতেও ব্রিজটি পুরোপুরি নিরাপদ নয়। আজেবাজে ছেলেরা এখানে বসে থাকে এবং পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করে। অনেকেই বলেন, বাধ্য হয়ে তারা রাস্তা পার হন, কিন্তু ব্রিজ ব্যবহার করেন না। কারণ ব্রিজে উঠলে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তারা দাবি করেন, ব্রিজে পর্যাপ্ত লাইট বসানো হলে অন্তত অন্ধকার দূর হবে এবং মানুষ কিছুটা সাহস করে ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশি টহল বা নজরদারি থাকলে বখাটেদের দখল কমে যাবে।
নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা
শহরের নিরাপদ চলাচলের জন্য ফুটওভার ব্রিজ অপরিহার্য। কিন্তু যদি সেই ব্রিজ ব্যবহারযোগ্য না হয়, তবে তা নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি যদি জনসাধারণের কাজে না আসে, তবে তা শুধু অর্থের অপচয় নয়, মানুষের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।
আলো ও নিরাপত্তার দাবি
স্থানীয়দের একটাই দাবি—ব্রিজে পর্যাপ্ত লাইট বসানো হোক এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। তাহলেই মানুষ নির্ভয়ে ব্রিজ ব্যবহার করবে। অন্যথায় এই ব্রিজটি শহরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক অকার্যকর স্থাপনা হিসেবেই থেকে যাবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সামনে থাকা ফুটওভার ব্রিজটি বর্তমানে মানুষের কাছে ভয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোহীনতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং বখাটেদের দখল—সব মিলিয়ে এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ সামান্য উদ্যোগ নিলেই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং ব্রিজটিকে সত্যিকারের পথচারীবান্ধব স্থাপনায় রূপান্তর করবে।
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ খ্রি.














