

প্রিয় নাতি-নাতনি এবং তরুণ প্রজন্ম, তোমাদের প্রতি আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও আশীর্বাদ সবসময় রইলো। পৃথিবীর যেকোনো কিছুর চেয়ে আমি তোমাদের বেশি ভালোবাসি। তোমাদের অধিকাংশই এখনো ছাত্র-ছাত্রী, আর বাস্তব জীবনের বহু বিষয়ে এখনো অনভিজ্ঞ। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তোমরা অনেক অদৃশ্য শত্রুর সম্মুখীন হচ্ছ।
সেই শত্রুগুলো কী?
মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি, অলসতা, অমনোযোগিতা, আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা, উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো এবং জীবনে নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকা।

অপ্রয়োজনীয় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত আড্ডায় সময় নষ্ট করা, অন্যদের সামনে অহংকার বা বড়াই করা কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ—এসবও অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দৃষ্টিতে খারাপ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
ধূমপান, মাদক বা অন্য যেকোনো ক্ষতিকর নেশা ছাত্রজীবনের সবচেয়ে বড় শত্রুদের একটি। বই থেকে দূরে থাকা এবং পরীক্ষার হলে নকলের ওপর নির্ভর করার মানসিকতা তোমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে।
কখনো কি ভেবে দেখেছ, জীবনের এই ক্যারিয়ার গঠনের সময়ে তোমরা কত রকম বিপদের মধ্যে আছ? কখনো কি আন্তরিকভাবে সেগুলো অতিক্রম করার চেষ্টা করেছ?
সংক্ষেপে বলতে গেলে, দুটি জিনিস একসঙ্গে একই জায়গায় স্থান নিতে পারে না। কেউ যদি একসঙ্গে দুই নৌকায় পা দিতে চায়, তবে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকবেই। যে সময়ে তোমাদের ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগ দেওয়ার কথা, সেই সময় অনেকে সাময়িক আবেগ ও অবাস্তব কল্পনায় বিভোর হয়ে পড়ে এবং মনে করে এগুলোই জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এনে দেবে।
বাস্তবে এসব বিভ্রান্তি অনেক তরুণ-তরুণীর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমি তোমাদের জানাতে চাই, খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীই জীবনে সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে সফল হতে পারে। অধিকাংশ মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত ও অমনোযোগিতার কারণে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধি এবং জীবনের শান্তি হারিয়ে ফেলে।
এখন সিদ্ধান্ত তোমাদের—
তোমরা কি একসঙ্গে অনেক নৌকায় পা রাখবে, নাকি একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে দৃঢ় সংকল্প ও একাগ্রতার সঙ্গে জীবনের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে?
আমরা যে পৃথিবীতে কিছুদিন আগেও বাস করতাম, সেই পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। সামনের দিনগুলোতে টিকে থাকার জন্য আগের চেয়ে আরও বেশি ধৈর্য, প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।
সবশেষে বলবো—
আসুন, আমরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করি। সুশিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, নৈতিক মূল্যবোধ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতায় নিজেদের সমৃদ্ধ করি। কারণ এই পরিবর্তিত বিশ্বে টিকে থাকা ও সফল হওয়ার জন্য জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও যোগ্যতার কোনো বিকল্প নেই।
আল্লাহ তোমাদের সকলকে জ্ঞান, সততা, সফলতা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ দান করুন। অশেষ ভালোবাসা ও দোয়া রইলো।
তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী দাদু : মুহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, প্রাক্তন ম্যানেজার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (জার্মান)
প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে ২০২৬ খ্রি.
















