

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, চাঁদপুর :
চাঁদপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুর খানের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক রাবেয়া আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত পিএইচএফ।
বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল হেলাল এবং ফল উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ সাইফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, ফল উৎসব কেবল আনন্দের নয়, এটি আমাদের দেশীয় ফল সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
আমাদের ফলের পুষ্টিগুণ, বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি এমন সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জন ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের সঙ্গে অধিক সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। তাই তাদের শিকড়, ঐতিহ্য ও দেশীয় সম্পদের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফল উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের মৌসুমি ও দেশীয় ফল সম্পর্কে জানতে পারছে, পাশাপাশি দলগত কাজ, উপস্থাপন দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। আমি আশা করি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ভবিষ্যতেও এমন শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপ চাঁদপুরের কো অর্ডিনেটর মাহাবুবুল হোসেন ও এসিস্টেন্ট কো অর্ডিনেটর মোঃ ইকবাল হোসেন।
উৎসবে দেশীয় ও মৌসুমি নানা ধরনের ফলের সমাহারে মোট ৭টি স্টল অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি স্টল সৃজনশীল উপস্থাপনা ও বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফল ও আকর্ষণীয় সাজসজ্জার মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর সৃজনশীল উপস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
















