স্বরূপকাঠিতে সরকারি খাস জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি

স্বরূপকাঠীর মিয়ারহাট বাজারে অনুমোদন পাওয়ার আগেই সরকারি খাস জমিতে একটি সেমি পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী নিবিরের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সরকারি খাস জমি বরাদ্দের জন্য প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন জমা দেন ব্যবসায়ী নিবির। এরপরই শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির দিনকে পুঁজি করে দিন-রাত লোক লাগিয়ে তড়িঘড়ি করে ভবনের অধিকাংশ কাজ শেষ করে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, খাস জমিতে যেকোনো ধরনের স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের চূড়ান্ত অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও, এখানে তার তোয়াক্কা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সহকারী তহসিলদার সনাউলকে ম্যানেজ বা প্রভাবিত করে এই অবৈধ নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সহকারী তহসিলদার সনাউল বলেন, বৃহস্পতিবার তারা একটি আবেদন জমা দিয়েছে, যা রোববার জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন ছাড়া এখানে কোনো ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই। আমি তাদের কাজ বন্ধ রাখার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেছি।

এদিকে রবিবার (১৪ জুন) সরেজমিনে মিয়ারহাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করেই নির্মাণকাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নিবিরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আগুনে আমার দোকানটি পুড়ে গেছে। তাই ভবন নির্মাণের জন্য বৃহস্পতিবার আবেদন করেছি। তবে ডিসির অনুমোদন পাওয়ার আগেই কেন কাজ শুরু করলেন এমন প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব তিনি দিতে পারেননি। উল্টো বক্তব্য এড়াতে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের ‘আপ্যায়নের’ প্রস্তাব দেন এবং বড় ভাইদের অনুমতি নেই অজুহাতে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর তাদের উদ্দেশ্যে নেপথ্যে আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্যও করা হয়।

এ ব্যাপারে নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহমুদ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারি খাস জমিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পাকা বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই ধরনের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।

প্রকাশিত : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ খ্রি

You might like

About the Author: priyoshomoy