গাইবান্ধায় সাংবাদিকের পরিবারে ফের দুর্বৃত্তায়ন: বিভিন্ন মহলের নিন্দা

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক সাংবাদিকের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফের বে-পরোয়া হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারপিট, ভাংচুর, লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। একটি মামলায় জামিন পেয়েই এ পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় ইতঃমধ্যে নিন্দা জ্ঞাপন করে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন ঢাকা প্রেস ক্লাব’র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল।

জানা যায়, গত ১ জুলাই ‘নন-এফআইআর প্রসিকিউশন’ মূলে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায় হামলাকারি আল-আমীন বাহিনী। এরপর ৯ জুলাই ভোর থেকে দিনব্যাপী ছোট ভাই আশরাফুলের দোকান কাম বাড়ি জবর দখলের অপচেষ্টায় পরিকল্পিত তাণ্ডব চালায় আল-আমীন বাহিনী। পরে অতর্কিতভাবে সাংবাদিকের পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে ৯ মাসের এক শিশুসহ সাংবাদিক পরিবারের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার শোভাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মোড় সংলগ্ন সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় আল-আমীন ও গোলজার হোসেনের নেতৃত্বে ১৭-১৮ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। হামলায় সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক, তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগম, ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কাকলী বেগম ও তাঁদের ৯ মাসের শিশুকন্যা আফরিন জান্নাত মণি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে আশরাফুল ইসলামের দোকানঘর দেশীয় অস্ত্রের মুখে দখলের অপচেষ্টা চালায় আল-আমীন ও তার সহযোগীরা। উপায় না পেয়ে আশরাফুল জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই মোবারক আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ও উদ্ধার করা অস্ত্রসহ আল-আমীনকে দোকান থেকে বের করে দেন। তবে পুলিশ চলে যাবার পরপরই হামলাকারীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে পাশের নিজ দোকানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিক আবু বক্কর ও তাঁর স্ত্রীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারধর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

​এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক ও তাঁর ভাই সুন্দরগঞ্জ থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে সিআর মামলা (নং- ৫৩৯/২০২৬) দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পাঁপড়ি বড়ুয়া অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, ‘আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আমার পরিবারকে হুমকি-ধামকি, মেয়েকে অপহরণ, ফেইসবুকে অপপ্রচার, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদা দাবি ও জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। গত ২৯ মে থানায় লিখিত এজাহার দেয়া হলেও ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ মামলা নথিবদ্ধ না করে সালিশের নামে সময়ক্ষেপণ করেন। বাধ্য হয়ে আমি আদালতে অপর একটি মামলা (সিআর নং- ৪৫৫/২০২৬) দায়ের করি।’

জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর আসামিদের হুমকিতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১১৫৬) দায়ের করা হয়। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ গত ২ এপ্রিল আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করে। উক্ত মামলায় গত ১ জুলাই আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এসেই পূর্বে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও সাক্ষ্য দেয়া কেন্দ্র করে পুনরায় এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।

সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিকের দাবি, ‘থানা পুলিশ যদি আমার প্রথম এজাহারটির বিষয়ে শুরুতেই যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিত, তবে আসামিরা পরবর্তীতে পরিবার ও সম্পদের এত বড় ক্ষতি করার সাহস পেত না।’

তিনি আরো বলেন, সরকার বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের সহযোগি সংগঠন ‘ফেডারেশন’র নেতা পরিচয়ে বে-পরোয়া হয়ে উঠে নেশাখোর আল-আমীন বাহিনী। দলীয় প্রভাবে অপহরণ, মুক্তিপণ, চাদাবাজী, প্রকাশ্য দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত থেকে প্রতিবেশীদেরকেও হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভূমিদস্যুতাণ্ডব চালাতে থাকে অব্যাহত। গরুচুরি, মুদ্রাপ্রতারণা কারবার আর মাদক নেশায় আশক্ত আল-আমীন, রাজু, রানু, আঙ্গুর ওরফে খোরশেদসহ আরো কিছু ওই শ্রেণির জনবলে বলিয়ান ও ঐ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ উপর মহলের সবুজ সংকেতে আইন-শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে নানান অপ-কর্মে লিপ্ত হয়। জন সম্মুখে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত আল-আমীন বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কয়েকজনকে আটকের পর গ্রেপ্তার পূর্বক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করে কৌশলে সাহস বাড়িয়ে দেয়ায় পুলিশি ভূমিকা নিয়ে জনমনে উঠেছে নানান প্রশ্ন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক আলী বলেন, ‘আল-আমীনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে, সেখানেই বিষয়টি দেখা যাবে।’

​এদিকে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ ক্ষতিগ্রস্ত দোকানঘর পরিদর্শন করে হামলাকারীদের বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন ও ঘটনার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্থিতি বজায় রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

You might like