চাঁদপুরে সোনালি আঁশে ভাল ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষক

সজীব খান, চাঁদপুর :

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালি আঁশখ্যাত পাটের বাম্পার ফলন কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাটখেত, আর এখন চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা। গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে সারি সারি পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য যেন ফিরিয়ে এনেছে বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য।

জেলার সদর, কচুয়া, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, শাহরাস্তি, হাইমচরসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে পাট সংগ্রহ করছেন। পরিবারের সদস্যরাও এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। মাঠ থেকে পাট কেটে জলাশয়ে জাগ দেওয়া, পরে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানোর কাজে এখন গ্রামীণ জনপদে কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাটের আবাদ ও কৃষকদের আগ্রহ আবারও বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কৃষকদের ভাষ্য, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় তারা লাভের আশা করছেন। তবে সেই আশার সঙ্গে রয়েছে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে যদি পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন তারা।

একসময় দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত ছিল পাট। পরিবেশবান্ধব এই প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদা দেশ-বিদেশে আবারও বাড়তে শুরু করায় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনালি আঁশের সেই হারানো গৌরব ধীরে ধীরে ফিরে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাট চাষে সরকারি প্রণোদনা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাঁদপুরে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সোনালি আঁশ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপন রায় বলেন, “চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আন্তরিক পরিচর্যার কারণে এবার পাটের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। উৎপাদনও সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বাজারে পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন এবং আগামী মৌসুমে পাট চাষে তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই পাটচাষিদের সার্বিক খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে পাট কাটার পুরোদমে মৌসুম চলছে। কৃষকরা মাঠ থেকে পাট সংগ্রহ, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি রয়েছে।

প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy