

সম্পাদকীয়
সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর বিস্ময় ও প্রশ্নের সৃষ্টি করে দিলো। প্রিয় সময়ে ‘ স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরলেন স্বামী, তারপর যা করলেন তাতে অবাক সবাই!’

শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের পাঠকদেরকে হতবাক করেছে। সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, পরকীয়ায় লিপ্ত স্ত্রীকে হাতেনাতে ধরার পর স্বামী সেলিম রেজা যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তা’ দেখে অবাক সবাই। রাগ বা হিংস্রতার বদলে তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমিকের বিয়ে দিয়ে দিলেন এবং সকালে নিজ দায়িত্বে নবদম্পতিকে বাসে তুলে দিলেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটিকে একটি ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান’ বা চরম পরমতসহিষ্ণুতা বলে মনে হলেও, সমাজচিন্তকদের মনে প্রশ্ন জাগছেÑতাহলে সমাজ কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?
পারিবারিক বন্ধন ও দাম্পত্য সম্পর্ক হলো যেকোনো সামাজিক কাঠামোর মূল ভিত্তি। বিশ্বাসের সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধের ওপরই এ সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের নানা স্তরে পরকীয়ার যে প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, তা’ চরম নৈতিক সঙ্কটেরই ইঙ্গিত দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এবং অনিয়ন্ত্রিত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্কের যে শিথিলতা তৈরি হচ্ছে, তা’ কোনোভাবেই সুস্থ সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে প্রকাশ পেলো কীভাবে বৈবাহিক পবিত্রতা আজ ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
“নৈতিক অবক্ষয় যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সামাজিক চরম অসংগতিগুলোকেও আমরা স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে শুরু করি।”প্রশ্ন উঠছেÑএমন ঘটনা কি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ, নাকি মূল্যবোধের চরম দেউলিয়াত্ব? অনেকে হয়তো এটিকে কোনো রক্তপাত বা সংঘাত না হওয়ার কারণে ভালো সমাধান হিসেবে দেখতে চাইবেন। কিন্তু গভীরে গিয়ে দেখলে বোঝা যায়, পারিবারিক যে আদর্শ ও সামাজিক অনুশাসন একটি সমাজকে টিকিয়ে রাখে, তার ভিত্তি কতোটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অপরাধবোধ বা অনুশোচনার জায়গায় এখন যুক্ত হয়েছে এক অদ্ভুত বাস্তবতা। পরকীয়া এবং সামাজিক অবিচার যেভাবে অনায়াসে গৃহীত হচ্ছে, তাতে আগামী প্রজন্মের কাছে নৈতিকতার কী বার্তা পৌঁছাবে, তা’ ভেবে দেখার সময় এসেছে।
সমাজ যদি এ সঙ্কট থেকে উত্তরণ না পায়, তবে সঙ্কটের মাত্রা আরো বাড়বে। বিবাহ নামক পবিত্র বন্ধনটি যদি এতোটাই সস্তা হয়ে যায় যে, সামান্য ঘটনায় কাবিন বদল করে বাসে তুলে দেয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করা যায়, তবে তা’ সামাজিক নিরাপত্তার জন্যে চরম হুমকি।
এ ধরনের অসঙ্গতি রোধে কেবল আইনের ওপর ভরসা করলে চলবে না; প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, মানসিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। সমাজকে রক্ষা করতে হলে আমাদের জানতে হবেÑকোথায় থামতে হবে এবং কীভাবে নৈতিকতার চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় অনাচারের এ ঘূর্ণাবর্তে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। এ জাতীয় ঘটনার জন্যে আমাদের দ্রুত সামাজিকভাবে ব্যবস্থাগ্রহণ করা অবশ্যই জরুরী।
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬













