ফিরেছে পানির স্রোত, জেগেছে দেশীয় মাছের বিচরণ : খননের পর নাব্যতা ফিরে পেয়েছে শাহমাহমুদপুরের বিশ্বখাল

সজীব খান, চাঁদপুর
দীর্ঘদিনের পলি জমে নাব্যতা হারানো চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বখাল এখন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সরকারি উদ্যোগে খাল খনন সম্পন্ন হওয়ায় খালে ফিরেছে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ, সৃষ্টি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ। খালের বুকজুড়ে বইছে পানির ঢেউ, আর সেই সঙ্গে দেখা মিলছে ভাটা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের বিচরণ। স্থানীয়দের মতে, একসময় যে খালটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল, এখন সেটি যেন নতুন রূপে সেজে উঠেছে।

খননকৃত খালের একপাড়ে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন সড়ক, যা স্থানীয় মানুষের চলাচলের নতুন ও সহজ মাধ্যম হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ। নবীন সবুজের সমারোহে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ। খালের স্বচ্ছ পানি, সবুজ গাছপালা এবং নান্দনিক সড়ক মিলিয়ে এলাকাটি এখন এক অপরূপ সৌন্দর্যের পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।

স্থানীয়রা জানান, খালটি খননের ফলে ঘোষেরহাট থেকে ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত পানিপ্রবাহের সংযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে। এতে নদী ও খালের মধ্যে স্বাভাবিক পানি চলাচল নিশ্চিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষিকাজ, সেচ ব্যবস্থা এবং পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সার্বিক তত্ত্বাবধানে খননকাজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম এন জামিউল হিকমাএবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আফতাবুল ইসলাম নিয়মিতভাবে খননকাজ তদারকি করেন।

শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ বলেন, “সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্বখাল খনন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর খালটি তার হারানো নাব্যতা ফিরে পেয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। খালটি শুধু পানি প্রবাহই নিশ্চিত করবে না, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে এটি নৌ-যোগাযোগ, কৃষি এবং মৎস্যসম্পদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পাশাপাশি খালের তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও আরও সমৃদ্ধ হবে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Views: 7

You might like

About the Author: priyoshomoy