চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৫

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়াস্থ বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী এসি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ৬ জনকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি লেগুনা চকরিয়ার দিকে যাচ্ছিল। লেগুনাটি খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী এসি বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে সরাসরি লেগুনাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনাটি উল্টে গিয়ে প্রায় ২০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “ফজরের নামাজের পরপরই বিকট শব্দ শুনে আমরা মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তার ওপর লেগুনাটি উল্টে আছে, চারদিকে রক্ত। বাসটি সামনে গিয়ে থেমে যায়। আমরা দৌড়ে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করি।”

খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হতাহতদের পরিচয়
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় পুরোপুরি জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে লেগুনার চালকসহ ৩ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রয়েছেন। তাদের সবার বাড়ি চকরিয়া ও পার্শ্ববর্তী ঈদগাঁও এলাকায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।”

যান চলাচল ব্যাহত, ক্ষোভ
দুর্ঘটনার পর পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনাটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, সকাল সকাল এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া থেকে নয়াপাড়া পর্যন্ত অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ি ঢালু, বাঁক এবং চালকদের বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের কারণে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগেও এই এলাকায় বাস-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশের চকরিয়া-মহেশখালী সার্কেলের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে বাসটির অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ওভারটেকিং দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সড়কে মৃত্যুর মিছিল
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। পর্যটন মৌসুমে এ সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সড়কের তুলনায় যানবাহন বেশি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতায় প্রতিনিয়ত ঘটছে প্রাণহানি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, খুটাখালী এলাকায় গতিরোধক, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত টহল বাড়ানো হোক। পাশাপাশি লেগুনা ও মাহেন্দ্রর মতো ছোট যানবাহনগুলো মহাসড়কে চলাচলে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা প্রয়োজন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিবারে চলছে আহাজারি।

প্রকাশিত :  ‍বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy