

জিল্লুর রহমান :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের জন্তিপুর গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার চলাচলের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রামের ৭-৮শ পরিবারের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন স্থানে কাদা-পানি জমে যায়। ফলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
জন্তিপুর গ্রামে প্রায় ৭-৮শ পরিবার বসবাস করে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামটিতে প্রায় ১২শ ভোটার রয়েছেন। এছাড়া গ্রামে স্কুল, মাদ্রাসাসহ রয়েছে পূজামণ্ডপ। এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য স্থানীয়দের অন্যতম প্রধান পথ এই রাস্তা।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে তাদের বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ ও কৃষকদেরও এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এমন অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অটোরিকশা চালক জাহিদুল বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আমাদের চলাচল করতে হয়। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে একটু বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
আলহাজ্ব আবুল কালাম বলেন, গ্রামে স্কুল-মাদ্রাসার পাশাপাশি পূজামণ্ডপও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মানুষকে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু রাস্তার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তালম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মকবুল হোসেন বলেন, জন্তিপুর গ্রামে প্রায় ৭-৮শ পরিবার বসবাস করে। এখানে প্রায় ১২শ ভোটার রয়েছে। এত মানুষের চলাচলের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা খুবই দুঃখজনক।
১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতির আইয়ুব আলী বলেন, আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তাটি পরিদর্শন করে সংস্কারের ব্যবস্থা করুক। রাস্তাটি ভালো হলে গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
অন্তত কুমার বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। রাস্তা খারাপ থাকায় তাদের বই-খাতা ও কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত রাস্তাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করা হোক। এতে গ্রামের শত শত পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, আবেদন পেয়েছি যে কোন প্রকল্প আসলে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

















