আমার ইউনিয়ন আমার ভাবনা : শরীফ খান

স্বানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরগরম পুরোদেশ। প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, আদালত পাড়া, সচিবালয় সহ সবখানেই আলোচনা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আমার ভাবনা হলো আমরা এমন একজনকে চাই, যিনি সবসময় জনগন নিয়ে ভাববেন, আর কি করলে জনগনের উপকার হবে জনগনকে আরও নিরাপদে রাখা যাবে। যিনি জনগনকে দিতে চান, জনগনের কল্যানে কাজ করে আনন্দ পান। এমন নেতাই তো জনগনের কাম্য।

আমার দৃষ্টিতে মৈশাদী ইউনিয়নের এমন একজন ব্যক্তিই আছেন যিনি বিগত স্বৈরাচার আমলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিপদ-আপদে সাহস দিয়ে আগলে রেখেছেন এবং তাদের মিথ্যা হামলা-হামলার দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়েছেন, যারা মামলার আসামী ছিলেন তাদেরকে নানাভাবে সহযোগিতা করে মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। নেতাকর্মী যারা জেলে ছিলেন, জেলের ভিতরে একটু ভালো খাবার এবং ভালো থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এমনকি তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের খোঁজ খবর নিয়ে সাহস যোগাতেন এবং বলতেন আমি আপনার পরিবারেরই একজন সদস্য।

সাধারণ জনগণের যেখানে সমস্যা দেখেন সেখানেই পাশে দাঁড়ান। এক কথায় তিনি হলেন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে খ্যাত জনাব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী সাহেব।

*জনাব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর বিগত দিনের কিছু কার্যক্রম তুলে ধরছি।*

*প্রথমত:* মানিক পাটোয়ারী একজন দক্ষ চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি পরোপকারী, ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি, যার ভিতরে হিংসা, বিদ্বেষের বিন্দুমাত্র লেশ নাই। তিনি একেবারেই সাদা-মাটা, সহজ-সরল জীবন যাপন করেন। মানিক পাটোয়ারীর সাথে সাধারন মানুষ নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দে কথা বলতে পারেন।

দ্বীতীয়ত: মানিক পাটোয়ারী সাহেব একটি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে দিয়েছেন। তার আমলেই জনগন অনলাইন ভিত্তিক ডিজিটাল সেবার সুফল ভোগ করেন। যার কারণে তাঁকে ডিজিটাল চেয়ারম্যান বলা হতো।

তৃতীয়ত: ২০২০ সালে মহামারী করোনা ভাইরাসের কথা এখনও আমরা ভুলি নাই। সারা পৃথিবীর মতো আমাদের মৈশাদী ইউনিয়নের জনগনও আতঙ্কিত এবং অসহায়ের মধ্যে পরে। এমতাবস্থায় মানিক পাটোয়ারী সাহেব ইউনিয়নে জনগণের আর্শিবাদ হিসাবে উপনীত হন। দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে সাহস নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে জনগণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন ও সেবা দেওয়া শুরু করেন। সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে “সততা ষ্টোর” দিয়ে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্য-সমগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ফ্রি মেডিক্যাল সেবার ব্যবস্থা করে দেন। আত্ম-মানবতার সেবার কারণে জনগণ তাঁকে মানবতার ফেরিওয়ালা খেতাব দেন।

চতুর্থত: সকারের সামাজিক বেস্টনির আওতায় উপজেলা প্রসাশনের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরী করে শতভাগ বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করেন এবং ৭০ ভাগ বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে রেখে যান। এছাড়াও মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি, জেলে কার্ড উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেন। যা সকল মহলে প্রসংসিত হয়। এসব ভাতা বিতরণের বিষয়ে মেম্বারদের প্রতি ছিলেন কঠোর। সরাসরি তিনি ভাতা ভোগিদের প্রশ্ন করতেন কোথাও কোন প্রকার টাকা পয়সা দিয়েছেন কিনা? কোন প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতেন।

মানিক পাটোয়ারীর বিভিন্ন কার্যক্রম এবং গতিশীল নেতৃত্বের কারণে জেলা প্রশাসন জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেন। নাগরিক সেবার দিক দিয়ে ইউনিয় ডিজিটাল সেন্টার (UDC) পরপর ০৫ (পাঁচ)বার জেলার শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল সেন্টারের মর্যাদা পায়। একদিনের আয়ের দিক দিয়ে সারা বাংলাদেশের মধ্যে ৪র্থ স্থান অর্জন করে।

পঞ্চমত: মানিক পাটোয়ারী চেয়ামন্যান থাকাকালীন সময়ে অসংখ্য কাঁচা রাস্তা পাঁকাকরণ, অনেক পুরাতন রাস্তা সংস্কার করণ, নতুন নতুন ব্রীজ-কালভাট তৈরী করে গেছেন, যা এখনও অব্যাহত আছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন তাঁর শাসন আমলে লক্ষণীয় উন্নতী হয়। এছাড়াও অনেক নতুন ঘাটলা করে দেন। যা ছিল ঈশ্বনীয় অগ্রগতির বহিঃপ্রকাশ।

ষষ্ঠত: বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, কিশোরগ্যাং, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের ছোবল থেকে জনগণকে নিরাপদে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এই সব বিষয়ে তিনি জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল ছিলেন।

সবদিক বিবেচনা করে আমার মনে হয় মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী সাহেব-ই মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সময়োপযোগী এবং মৈশাদী ইউনিয়ন জনগণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

প্রকাশিত :  ‍শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy