

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সাংবাদিকের পরিবারে সশস্ত্র হামলাকারীদের কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা হলেও রহস্যজনক কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের শোভাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মোড়ে ১৭-১৮ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত নিয়ে দিনব্যাপী তাণ্ডব চালায় আল-আমিন নাম, রাজু, গোলজার ও আঙ্গুর ওরফে খোরশেদ। উপায় না পেয়ে সাংবাদিকের ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিলে সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক আলী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ প্রস্থান করা মাত্রই আল-আমিন ও তার দলবল আবারো অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারপিট, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে। পরবর্তীতে সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিকের ফোন পেয়ে পুলিশ পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ প্রধান হামলাকারীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এনিয়ে অভিযোগ উঠেছে, রহস্যজনক কারণে পুলিশ পর মুহূর্তেই তাদের ছেড়ে দেয়।
এর আগে গত ১ জুলাই সাংবাদিকের দায়ের করা একটি নন-এফআইআর প্রসিকিউশন মামলায় (নং-২২/২০২৫) আদালত থেকে জামিন পায় প্রধান চার আসামি আল-আমিন, রাজু, গোলজার ও আঙ্গুর (খোরশেদ)। জামিনে বেরিয়েই তারা পুনরায় সংগঠিত হয়ে সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক, তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগম, ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কাকলী বেগম ও তাঁদের ৯ মাস বয়সী শিশুকন্যা আফরিন জান্নাত মণিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক ও তাঁর ভাই পৃথকভাবে থানায় লিখিত এজাহার জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড না করায় বাধ্য হয়ে আশরাফুল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গত ৯ আগস্ট সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ মামলাটি রেকর্ড করেন। কিন্তু মামলা হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুনরায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আসামিরা। দিচ্ছে প্রকাশ্যেই হুমকি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৯ মে একই আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে সালিশ-বৈঠকের নামে সময় ক্ষেপন করে। পুলিশের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় ২৩ জুলাই আদালতে মামলা করেন সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক।
অন্য একটি মামলায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ সত্তেও এফআইআর হিসেবে গণ্য না করায় গত ৩০ জুলাই সুন্দরগঞ্জ থানার ওসিকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) আদেশ দেন বিচারক পাঁপড়ী বড়ুয়া।
এ বিষয়ে জানতে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্-র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক দাবি করেন।
বর্তমানে পুরো পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং তাঁরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশিত : শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

















