

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :
‘‘মানুষ মানুষের জন্য-জীবন জীবনের জন্য’’—এই প্রতিপাদ্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া কিংবা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়াসহ মানবিক সহায়তার নানা উদ্যোগ ইতোমধ্যেই মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিপদে পড়া মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এমন উদ্যোগ স্বস্তি ফিরছে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার অনেক অসহায় পরিবারের জীবনে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার স্পাইনা বিফিডিয়ায় আক্রান্ত শিশু নাবিলার (৪ মাস) চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাবিলা নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের সনারকান্দা গ্রামের দিনমজুর রনি মিয়া ও শিউলি আক্তারের মেয়ে। দুই মাসের মধ্যে নাবিলা গুরুতর স্পাইনা বিফিডিয়া রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ রেফার করা হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
ময়মনসিংহের চিকিৎসকগণ জানান, অপারেশন করাতে পারলে ভালো হয়ে যাবে নাবিলা। কিন্তু দিনমজুর বাবা রনি মিয়ার পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন পরিবারটি। পরে এ বিষয়টি বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে পৌঁছালে তিনি নাবিলার অসুস্থতা ও পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তিনি নাবিলার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (১৫ আগস্ট) সকালে নাবিলাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলবে জানান, ব্যারিস্টার কায়সার কামালের চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত প্রতিনিধিগণ।
চিকিৎসায় সহযোগিতার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মানবিক উদ্যোগের মধ্যে চিকিৎসাসেবা অন্যতম। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সময় অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা এবং বিনামূল্যে দুই উপজেলায় মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বহু অসহায় মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশু সনাম শিমনের হৃদরোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, দুই উপজেলায় দুটি সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও চার্জার স্থাপন করা হয়েছে। অসহায় পরিবারের জন্য নতুন ঘর তৈরি করে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল।
নাবিলার পরিবারের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটছে। একজন দিনমজুর বাবার পক্ষে মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া যখন কঠিন হয়ে পড়ছিল, তখন চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ পরিবারটির মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে। সব মিলিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কর্মকাণ্ড মানবিকতার একটি ধারাবাহিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, নাবিলার বাবা রনি মিয়া খুবই গরিব মানুষ। মেয়ের চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই। হতদরিদ্র এই পরিবারের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া নিজ অর্থায়নে অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, আর্থিক অনুদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, অসুস্থ ও দৃষ্টিহীন রোগীদের চিকিৎসা করানো, আশ্রয়হীনদের জন্য নতুন ঘর বিতরণ করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন, তা আর কোনো সংসদ সদস্যই করতে পারেননি। এমন সংসদ সদস্য পেয়ে আমরা গর্বিত। তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন সাধারণ মানুষের হৃদয়ে।
নাবিলার বাবা রনি মিয়া ও মা শিউলি আক্তারের এখন একটাই প্রত্যাশা—উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সন্তান দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। এ জন্য তারা সবার কাছে নাবিলার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের মৌলিক প্রয়োজন—চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়—নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দুর্গাপুর-কলমাকান্দার দরিদ্র মানুষের জীবনে তা আরও বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশিত : রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

















