

সজীব খান :
হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু নিয়ে এবারও লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আলু সংরক্ষণ, হিমাগার ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় অনেকটাই বেড়েছে। এর বিপরীতে বাজারে প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় অনেক ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আলু কিনে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। তখন বাজারে আলুর দাম তুলনামূলক ভালো থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাজারদর কমে যাওয়ায় তাদের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। হিমাগারে প্রতি বস্তা বা কেজি আলু সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের পাশাপাশি পরিবহন, শ্রমিক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হওয়ায় আলুর প্রকৃত ক্রয়মূল্য আরও বেড়ে যায়।
বর্তমানে বাজারে আলুর দাম ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না থাকায় হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে খরচের টাকা উঠবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা মৌসুমের শুরুতে তুলনামূলক বেশি দামে আলু কিনে সংরক্ষণ করেছেন, তাদের লোকসানের ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এখন বাজারে আলু পাইকারী ১৬ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, অথচ এই ধরেই তাদের আলু ক্রয় করতে হচ্ছে, হিমাগার ভাড়া,যাতায়াত খরচ,সব মিলিয়ে এখনো লোকসানের কবলে রয়েছে তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে আলু বিক্রি করতে হলে বর্তমান বাজারদরের চেয়ে আরও ভালো দাম প্রয়োজন। কিন্তু বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করায় তারা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না।
ব্যবাসায়ী হান্নান বলেন, ‘আলু কেনার সময় ভালো দামের আশা ছিল। কিন্তু হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ করার পর এখন যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত পাওয়া নিয়েই শঙ্কা রয়েছে।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলু সংরক্ষণ করে ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় তারা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বাজারে দাম না বাড়লে অনেক ব্যবসায়ীকে এবারও লোকসান গুনতে হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে আলু ব্যবসায় বিনিয়োগে অনেকে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
বেশ কয়েকটা হিমাগারের সাথে কথা বললে হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানান , এখনো ক্লোস্টরে প্রচুর আলু রয়েছে, যে পরিমাণ হার এই সময় আলু কাটতি হওয়ার কথা ছিল,তার তুলনায় অনেক অংশেই আলু কম বিক্রি হচ্ছে। হিমাগারের যারা আলু সংরক্ষণ করে রাখে, ছোট ছোট এ ধরনের অনেক ব্যবসায়ীরা চরম লোশসানের আশঙ্কায় রয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় আলুর বাজারদর স্থিতিশীল রাখা জরুরি। পাশাপাশি হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ। ফলে আগামী দিনগুলোতে আলুর বাজার কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ীরা।
প্রকাশিত : রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

















