

উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা হয়েছে যাত্রী ছাউনি, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ—দায় কার, প্রশ্ন স্থানীয়দের
সজীব খান, চাঁদপুর:
চাঁদপুর শহরের ব্যস্ততম বাবুরহাট-মতলব সড়কের মাথায় যাত্রী ছাউনি না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের আশ্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ছাউনিটি সড়ক বিভাগের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে ছাউনি অপসারণের পর এখন পর্যন্ত সেখানে নতুন কোনো যাত্রী ছাউনি নির্মাণ না হওয়ায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যানবাহনের অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বাবুরহাট-মতলব সড়কটি চাঁদপুর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, নারী, শিশু, বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। বিশেষ করে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষার সময় যাত্রীদের বসা কিংবা বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রী ছাউনিটি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন মেটাচ্ছিল। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় সেটি ভেঙে ফেলার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যাত্রী ছাউনিটি যদি কোনো সরকারি সংস্থার উদ্যোগে নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে অবৈধ স্থাপনার আওতায় পড়ল—এ প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সময় যাত্রী ছাউনিটি দখলে থাকায় তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যাত্রী ছাউনিটি জেলা পরিষদ নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে জেলা পরিষদই বিস্তারিত বলতে পারবে।
সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর এমন বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন—যদি যাত্রী ছাউনিটি জেলা পরিষদের নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সড়ক বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে সেটি কীভাবে ভেঙে ফেলা হলো? ছাউনিটি নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল কি না, সেটিও এখন পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা অবশ্যই প্রয়োজন। সড়ক ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। তবে কোনো স্থাপনা অপসারণের কারণে যদি সাধারণ মানুষের মৌলিক জনসেবা ব্যাহত হয়, তাহলে একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা উচিত।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা উচ্ছেদ করা হোক। কিন্তু যাত্রীদের বসার ও বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য যে ছাউনিটি ছিল, সেটি ভেঙে ফেলার পর সেখানে নতুন ছাউনি না থাকলে দুর্ভোগ তো সাধারণ মানুষেরই হবে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় যাত্রীদের আশ্রয় নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তিও তুলনামূলক বেশি।
এদিকে স্থানীয়দের আরও প্রশ্ন, যাত্রী ছাউনিটি যদি জেলা পরিষদের সম্পত্তি বা উদ্যোগে নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে উচ্ছেদের আগে জেলা পরিষদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমন্বয় করা হয়েছিল কি না। আর যদি সড়কের জায়গা দখল করে ছাউনিটি নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নির্মাণের অনুমোদন কে দিয়েছিল—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের মতে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে যেন জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়। একটি সরকারি সংস্থা জনসাধারণের সুবিধার জন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করবে, আর অন্য একটি সরকারি সংস্থার উচ্ছেদ অভিযানে সেটি ভেঙে যাবে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় ও দায়িত্বের বিষয়টি জনগণের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তাই বাবুরহাট-মতলব সড়কের মাথায় দ্রুত নতুন করে একটি নিরাপদ ও আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পুরোনো ছাউনিটি কী কারণে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য চান তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ যদি জনস্বার্থে হয়, তাহলে উচ্ছেদের পর যাত্রীদের জনদুর্ভোগ নিরসনের দায়িত্ব কার? আর জেলা পরিষদের নির্মিত যাত্রী ছাউনি যদি সড়ক বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়ে থাকে, তাহলে নতুন যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেবে কোন কর্তৃপক্ষ?
প্রকাশিত : বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

















