চান্দিনায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চান্দিনা উপজেলা সদরে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২২ মে শুক্রবার সকালে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি অভি’র নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেন চান্দিনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তপন বকসী ও চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল ফয়সল।

ভাঙচুর চালানো হয় চান্দিনা মধ্য বাজারের হাজী মো. জাহাঙ্গীর আলম এর মালিকানাধীন রয়েল সুজ, দুলাল সূত্রধর এর মালিকানাধীন পদশ্রী সুজ, বাবুন চৌধুরী মার্কেটের আবদুস ছালাম সুমন এর মালিকানাধীন তৈরী পোশাকের দোকান স্বপ্নপূরণ, মো. আবু কালাম এর মালিকানাধীন হামিদ কসমেটিক্স দোকানে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন পূরণ এর মালিক আবদুস ছালাম সুমন জানান, ’উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি অভি’র নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম দিয়ে দোকানের গ্লাস করা রেকগুলো পিটিয়ে ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।’

চান্দিনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এরশাদ আলী ভূইয়া জানান, ’উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি অভিসহ কয়েকজন ছাত্রলীগের কর্মী কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেছে। ব্যবসায়ীরা আমাদের জানানোর পরে আমরা ছুটে গিয়ে হামলাকারীদের বাধা দেই। তারা বলে আমরা ব্যর্থ, প্রশাসন ব্যর্থ। এভাবে আপনারাতো ভাঙচুর করতে পারেন না বললে তারা আমাদের কথা শুনে নি।’
তিনি আরও বলেন- ‘অভি বলেছে, যে দোকান খুলবে তার দোকানই ভাঙা হবে। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী ইয়াছিন আহমেদ অভি জানান, ’প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কাপড় ব্যবসায়ীরা দোকান খোলা রাখে। এতে প্রচুর ক্রেতা সমাগম হয়। আমরা তাদের নিষেধ করায় পোশাক দোকান স্বপ্ন পূরণ এর মালিক সুমন আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছে। তার দোকানে ভঙচুর হয়েছে। কিন্তু অন্যগুলো আমি বলতে পারবো না।’

এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. আবুল ফয়সল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ’ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিছু গ্লাসের রেক ভাঙচুর হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নেহাশীষ দাশ বলেন, চান্দিনার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খোলা রাখছে। স্বাস্থ্য বিধির বালাই নেই। প্রচুর ক্রেতা সমাগম হচ্ছে। আমরা উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদেরকে সমন্বয় করে দোকান বন্ধ করাতে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু ছাত্রলীগ কেন হামলা চালালো সেটা আমার বোধগম্য নয়। কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা বেআইনী। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You might like