

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
রাজাপুরে সাংবাদিক ও পুলিশের সম্মুখে হামলা- মাদ্রাসা শিক্ষক আমিনুল ইসলাম নেছারির ভাই ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক বাচ্চাসহ অসহায় পরিবারের উপর হামলা, তারকাটার বেড়ায় আবদ্ধ অসহায় পরিবার।

ঝালকাঠি রাজাপুরে সাংবাদিক ও পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার শিকার হয়েছে বাচ্চাসহ বিধবা তাছলিমার পরিবার। বসত ঘর ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করতে যাওয়া সেই বিধবা তাছলিমা ও তার নাতিসহ পুরো পরিবার। আজ দুপুরে যমুনা টিভির ঝালকাঠি প্রতিনিধি সাংবাদিক দুলাল শাহার এর নেতৃত্বে একটি দল তাছলিমা বেগমের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষন ও পরিদর্শন করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় নেতৃত্ব দেয় পূর্ব আঙ্গারিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক ও রাজাপুর গাজী বাড়ী জামে’ মসজিদের ইমাম ও খতিব আমিনুল ইসলাম নেছারির ভাই নাছির ও ভাতকাঠি নিবাসী দুর্দান্ত সন্ত্রাসী আবুল ওরফে ইয়াবা আবুল। সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাতকার দেওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে আবুল ও নাছির এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা মহিলাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এতে ০২ বছরের বাচ্চাসহ উক্ত পরিবারের কয়েকজন আহত হন।
ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে তাদের সামনের বারবার হামলা করতে আসে নাছির-আবুল। এসময় আবুল বারবার উক্ত পরিবারের সদস্যদের প্রান নাশ ও মান ইজ্জত হরনে হুমকি দেয়। এঘটনায় উপস্থিত সকলে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে।
এর আগে গত ০৩/১১/২০২০ইং তারিখে অসহায় বিধবা তাছলিমা বেগম ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে আমিনুল ইসলাম নেছারি ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে বসত ঘর লুটসহ ভেঙ্গে ফেলে ইট-বালু দিয়ে দেয়াল তোলার পায়তারার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করলে আরো ক্ষেপে আমিনুল ইসলাম।
ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বিধবা তাছলিমা বেগম জানান যে, গত ১৮/০২/২০২০ইং তারিখে তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমাম আমিনুল ইসলামের নামে অবৈধভাবে জোর পূর্বক জমি দখলের অভিযোগ এনে ঝালকাঠি কোর্টে এমপি (৮৮/২০ -রাজা) মামলা করেন। কিন্তু এতে উক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমাম আমিনুল ইসলাম নেছারী ও তার ক্ষিপ্ত হয়ে বারবার বৃদ্ধা ও তার একমাত্র ছেলে আঃ রহমানকে জীবন নাশের হুমকি দিতে থাকে, এতে শংকিত হয়ে প্রতিদিন রাতে পাশেই তার বোনের বাসায় অবস্থান করে এবং সকালে তার বসত ঘরে আসেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ০৪/১১/২০২০ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকার সময় ৪০/৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বর্বর হামলা করে বৃদ্ধার ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র লুটকরে এবং বসত ঘরখানা ভেংগে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে উক্ত ভিটিতে আগে থেকে তৈরীকৃত একখানা নতুন ঘর ও একটি দোকান তুলে ফেলে এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় বিধবা তাছলিমা বেগম।
তৎক্ষনাত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বৃদ্ধা ও তার মেয়েরা উক্ত স্থানে এসে ঘর ও দোকান তুলতে বাধা দিলে আমিনুল ইসলাম(৪০), তার ভাই নাছির(৩৫) ও তার পিতাঃ ফরিদ তাং এবং ভাড়াকৃত সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের পথ আটকে দেয় ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় এসময় তারা পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করলে তাদের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এঘটনায় তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় মামলা করেছেন।
এছাড়াও সাংবাদিকরা তাছলিমা বেগমের বসত ঘরের সামনে তারকাটার বেড়া ও ইট, বালু এবং ফাউন্ডেশনের জন্য গর্ত খোড়াও দেখতে পেয়েছেন।
তাছলিমা বেগম দুষ্কৃতিকারীদের বিচার ও স্বামীর রেখে যাওয়া একমাত্র অবলম্বন বসতঘর ফেরত পেয়ে যাতে শান্তিতে থাকতে পারে তার আবেদন করেন উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে।
আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য
০৫ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ২০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, বৃহস্পতিবার








