
সম্পাদকীয়
দিনের পর দিন কাউকে কষ্ট দিয়ে তার মনে ক্ষোভের জন্ম দিলে প্রতিবাদ পেতেই হবে একদিন। সেদিন কোনোভাবেই রক্ষা পাওয়া যাবে না। পুঞ্জিভূত ক্ষোভের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব। তাই কাউকে কষ্ট দেয়ার আগে চিন্তা করা উচিত। অন্যথায় ক্ষোভের বীজ থেকে একদিন ফল বেড়িয়ে আসবে জ¦ালাময়ীর তীব্রতা ও হিং¯্র থাবার মতো। এটা সবারই মনে রাখা উচিত।
প্রিয় সময়ে ‘ধর্ষণচেষ্টার প্রতিশোধ নিতেই ‘২৫ কোপে’ হত্যা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দারুণ সতর্কতামূলক শিক্ষা দেয়। সেই সাথে আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে প্রতিশোধ নিতে হয়। তবুও আইন বলে কথা আছে-আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি।

প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, অনেকদিন থেকে এক নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। তিনি সহ্য করেই চলেছেন। কিন্তু তার মনের মধ্যে যে ক্ষোভের জন্ম নিচ্ছে দিনের পর দিন, তা ক্রমেই বেড়েই যাচ্ছিলো। অবশেষে সেই নারীকে ধর্ষণেরও চেষ্টা করা হয়েছিলো। সেই নারী আর সহ্য করতে পারছিলেন না। তার মনের মধ্যে পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটালেন সেই নরপশুকে ছুরিকাঘাত করে। কতোটা কষ্ট আর ক্ষোভ তার মনে ছিলো যে, একটানা পঁচিশবার কোপালেন। আর তার মনের জ¦ালা মেটালেন প্রতিশোধ নিয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের গুনায় এলাকায়। আর সেই পুরুষ যেমনতেমন পুরুষ ছিলেন না; ভারতীয় কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত নেতা ব্রজভূষণ শর্মা! তার ওপর এতোটাই রাগ ছিল ঐ নারীর!
এই ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে আমরা একটা বিষয় পরিস্কার বুঝতে পারি যে, শুধুমাত্র নারী কেন-কাউকেই জ¦ালাতন করা ঠিক নয়। কাউকে দুর্বল ভেবে বারংবার বিরক্ত করা বা জ¦ালাতন করাটা দু:খজনক। হয়তো জ¦ালাতনকারী তখন সুখ খুঁজে পাচ্ছেন বা মজা নিচ্ছেন, কিন্তু একজন ব্যক্তির মনের মধ্যে প্রতিশোধের বীজ রোপন করছেন। আর সেই বীজ থেকে হঠাৎই একদিন যে ফল পাওয়া যাবে তা অত্যন্ত ভয়াবহ! সেই ভয়াবহ আগুন থেকে কোনোভাবেই রক্ষা পাওয়া যাবে না।
ঘটনাটি দু:খজনক হলেও দু:সাহসের বিষয় যে, ধর্ষণের চেষ্টা করায় তাকে টানা পঁচিশবার ছুরির কোপ মেরেছিলেন। সাথে সাথেই সেই কংগ্রেস নেতার মৃত্যু হয়। তবে সেই নারী খুব করে মোটেও পালিয়ে যাননি। নিজেই ফোন করে পুলিশকে ডেনে আনলেন। আমরা হয়তো মনে করতে পারি যে, সেই নারী ভালো কাজই করেছেন। বা উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু আইন সেই নারীর বিরুদ্ধে কী বলবে? তবে কথা হলো, রীতিমতো অবাক হওয়ার বিষয় সেই নারীর কা-কীর্তি দেখে। কতোটা ঘৃণা ও হিংসা তার মনের ভেতরে জমে থাকলে একজন নারী পঁচিশবার কুপিয়ে একজন পুরুষকে এভাবে প্রতিশোধ নিতে পারে, মেরে ফেলতে পারে।
আমাদের কথা হলো, নারীদের স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিন। বাঁচার অধিকার তাদেরও আছে। আর পুরুষদের উচিত নয়, তাদের যৌন নির্যাতন করা বা তাদের উপর বিরক্তিকর কোনো কিছু করা।








