
সম্পাদকীয়
‘সাধু’ শব্দটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। এই শব্দটি শুনতে বেশ ভালো লাগে। ভালো মানুষদেরই আমরা সাধারণত আদর করে বা সম্মান করে সাধু বলে থাকি। এই শব্দটি সম্বোধনের বা শোনার মধ্যে আলাদা মজা আছে। কিন্তু ‘বেশধারী’ যদি সাধু হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতি বা রূপ বুধবার সাধ্য কার? সে ধরণের সাধুদের ভক্তেরও অভাব থাকে না; দালালেরও অভাব থাকে না; ভ-ামীরও অভাব থাকে না। আর বিশ্বাসের আড়ালে তো ভুড়ি ভুড়ি মিথ্যাচার লুকিয়ে রয়েছে অজস্র !
আমাদের আরো সাবধান হতে হবে এ ধরনের সাধু বাবাদের থেকে। আর সেসব সাধু বাবাদের থেকে সাবধান হতে গেলে ‘সন্দেহের তালিকা’ বড় হয়ে যায়। অর্থাৎ তখন আর বিশ্বাসের জায়গাটা গ্রহণযোগ্য থাকে না। অর্থাৎ সামনে ভালো মানুষকেও বিশ্বাসের দৃষ্টিতে দেখতে হয়। এখানেই আমাদের বিপত্তিটা। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। কেননা চারিদিকে বিশ্বাসের ছড়াছড়ি। কে বিশ্বাস করবো, আর কাকেই বা অবিশ্বাস করে চলবো সেটা বোঝা বড়ই মুশকিল।

প্রিয় সময়ে ‘মতলবে ‘সাধু বাবা’ সেজে ৩ জনকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুট’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জানতে পেরেছি ভ-ামীর নতুন কৌশল। মানুষকে ঠকানোর দারুণ কৌশল আমাদের চোখে ভেসে উঠেছে। আমরা জেনেছি, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সাধু বাবা সেজে একই পরিবারের তিন জনের সাথে প্রতারণা করার মধ্য দিয়ে কীভাবে মানুষকে ঠকানো যায় তার নতুন কৌশল! ঐ তিনজনকে নেশা জাতীয় দ্রব্য দিয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনাটি আমাদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের সামনে দাঁড়ানো মানুষটি যতই ভালো হোক তাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যাবে না! তাকে বিশ্বাস করা মোটেও উচিত হবে না। কেননা তাকে বিশ্বাস করলেই সে বিশ্বাসের মতো সাধু বাবা সেজে হয়তো আমাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছি।
প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জেনেছি যে, ঐ তিনেরই অবস্থা গুরুতর। তাদের জ্ঞান ফিরেনি, বা তাদের জ্ঞান ফিরতে অনেক সময় লেগে গেছে। আর তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ জাতীয় সাধু বাবাদের জন্যেই প্রকৃত ভালো মানুষ বা সাধু বাবারা সমাজে গ্রহণযোগ্য হয় না। কেননা তাদেরকেও মানুষ অবিশ^াসের চোখে দেখে। মানুষ এখন কাকে বিশ^াস করবে, আর কাকে অবিশ্বাসের করবে সেটা বুঝতে কষ্ট হয়। এই সাধু বাবাও তো ভালো মানুষের মতো ঘুরাঘুরি করছিলো। সাধু বাবা বেশ কিছুদিন ধরে ভালো মানুষের অভিনয় করে ঘুরাঘুরি করছিলো। লোকটা বেশ বয়স্ক। মুখে দাড়ি, পরনে শুধুমাত্র গামছা পরিহিত। দেখতে বেশ লোকনাথের বেশে সাধু বাবা। সেজেগুজে ভদ্রলোক ঘুরে বেড়ান। আর টার্গেট করতে থাকেন কোথায় গিয়ে সর্বনাশের সুযোগ হাসিল করতে পারেন। আর ব্যক্তি হিসেবে খুঁজে পেলেন খোকন শীলকে। তার ঘরে যান ও পরিবারের উন্নতির জন্য ঝাড়ফোঁক ও জলপড়া দিতে থাকেন। আর বিশ^াস করে তাকে রাতে খাওয়া দাওয়ার কথা বললে তিনি কিছুই খেতে চাইলেন না। সাধুবাবার এটা বিশ^াস অর্জনের একটা জটিল অভিনয় ছিলো! অবশ্য পরে ওই ঘরেই থাকতে দেয়া হয়েছিলো এবং সেটা অনেক জোরাজুরির পরে। গভীর রাতে সাধু বাবা সর্বনাশ করে পালিয়ে গেলেন। ঘরের স্টিলের আলমারি, কম্বলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো রয়েছে। আর এদিকে ঘরের সবাই অজ্ঞান হয়ে শুয়ে আছেন। দেখা গেছে সাধু বাবা ঘরে নেই। তিনি ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে উধাও হয়ে গেলেন।
এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আমাদের আরো সাবধান হতে হবে; জগৎ বড়ই কঠিন। এ জাতীয় সাধু বাবাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা উচিত হবে না। তারা এভাবেই ভ- সেজে মানুষের সর্বনাশ করে! আমরা চাই ্এই ভ- সাধু বাবাকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত।
আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য
০৮ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ২৩ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, রোববার








