
সম্পাদকীয়
প্রকৃতির প্রতি মানুষ যতটুকু আচরণ করবে, তেমন সমপরিমাণ আচরণ প্রকৃতি ফেরত দেবে মানুষকে, এটা চিরসত্য কথা। সেদিকটি চিন্তা করলে নদী হলো প্রকৃতির সম্পদ। নদী সৃষ্টি মানুষের অসাধ্য হলেও অতি কষ্টকর; কিম্বা অসম্ভবও বটে। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে মানুষ নদীর সাথে খারাপ আচরণ করে। অর্থাৎ নদী তার নিজ গতিতে চলতে পারে না মানুষের বাধার কারণে। তাই নদীভাঙ্গন শুরু হয়। আর তখন হিসেব করেই নদী তার প্রতিবাদ দিয়ে দেয়। অবশ্য নদীকে তার গতিতে চলতে দেয়া উচিত। কেননা প্রকৃতি তার নিয়মেই চলবে, আর প্রকৃতি র বিরুদ্ধে বা নিয়মের বিরুদ্ধে চলে গেলে প্রকৃতি ঠিক থাকতে পারে না; বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অবশ্য এ বিষয়টি অজানা মানুষগুলোর কাছে বোঝা বড়ই কঠিন। তাই তো নদী দখলের মতো নোংরা কাজ করতেও মানুষ দ্বিধাবোধ করে না।
প্রিয় সময়ে ‘পঞ্চগড়ে নদী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি নদীকে রক্ষার জন্যে আন্দোলন হচ্ছে। এটা হওয়া উচিত। কিছু মানুষ এতোটাই দুষ্ট হয়েছে যে, নদীকে গ্রাস করবার জন্যে উঠে পড়ে লেগে গেছে। আর তাদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া এখনই দরকার। অন্যথায় নদী মরে যাবে। নদী মরে গেলে আমাদের অবস্থাও খুবই খারাপ হয়ে যাবে। আমরা নদীকে হারাবো। আর নদী আমাদের মরুভূমি উপহার দেবে।

আমরা প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, পঞ্চগড়ের তালমা নদীসহ অন্যান্য নদীগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। নদী দখল বেআইনী। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আইন তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছে না। যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারতো, তাহলে কেনো এভাবে একের পর এক নদীগুলো দখল হচ্ছে? সুতরাং আমাদের সকলেরই উচিত নদী দখলের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগে যাওয়া। অন্যথায় ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশ’ শব্দটি হারিয়ে যেতে পারে। সুতরাং দখলকারীদেরকে এখনই থামানো উচিত। তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো দরকার। শুধু পঞ্চগড়ের কয়েকটি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে, এটা যথেষ্ট নয়; সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসা উচিত।
আমরা জেনেছি, পঞ্চগড়ের ঐতিহ্যবাহী তালমা নদী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিন-দুপুরে নদীর গতিপথ বন্ধ করে কারখানা, বিনোদন পার্ক, চা কারখানা প্রাচীর দিয়ে দখল করে রেখেছে। ফলে নদীটি ধীরে ধীরে মরা খালে পরিণত হতে চলেছে। সুতরাং তালমা নদীসহ অন্যান্য নদীগুলো যারা দখল করে রেখেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। আর তাদের বিচার করে নদীকে রক্ষা করার দরকার। নদীকে আমাদের সকলকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা উচিত।
আমরা প্রকৃতির দান নদীকে ভালোবাসি। নদী আমাদের অনেক উপকার করে। তাই নদীকে রক্ষা করা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। শুধুমাত্র কিছু অশিক্ষিত ও গ-মুর্খদের দ্বারা নদী ধ্বংস হবে সেটা আমরা মোটেও কামনা করি না। তারা স্বার্থপর ও লোভী। তারা ভবিষ্যৎ চিন্তা করে না। দূরদির্শতা তাদের মধ্যে নেই। তাদের জ্ঞানের অভাব আছে বলেই তারা এমন বোকার মতো কাজ করতে পারে। সুতরাং সে সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় এনে নদীকে রক্ষা করা উচিত। আসুন, আমরা সকলে তাদের নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে শ্লোগান তুলি।








