করোনা ভাইরাস ও এবারের শীত!

সম্পাদকীয় …

আমরা বুঝতে পারছি যে, শীত এবার একটু আগেই হাজির হয়েছে। কুয়াশামাখা মিষ্টি ভোরে মাছেরা পানিতে ছুটোছুটি করছে। হঠাৎই মানুষজন গরম জামা কাপড় গায়ে জড়াতে শুরু করে দিয়েছে। আর এদিকে ভোরে হালকা কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস, রাত গভীর হলে শীতের অনুভূতি-এই দুই মিলিয়ে রীতিমতো বলা চলে হাড়কাঁপানো শীত আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের মতো সড়ক ও নৌপথে কুয়াশা চলার পথে বাধাও দেয়া শুরু করেছে। গ্রামে একটু বেশি শীত পড়লেও শহরে কিন্তু ভিন্ন চিত্র। সেখানে কুয়াশার সঙ্গে ধুলা যোগ হয়ে দৃষ্টিসীমা ঝাপসা করে দিচ্ছে। অতীতে আমরা দেখেছি, সাধারণত ডিসেম্বরের আগে এমন তীব্র শীতের অনুভূতি আমরা পাইনি। জানি না, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের পৃথিবীর অবস্থার আর কতো পরিবর্তন হবে!

এই তো কিছুদিন আগেও ঢাকার আকাশ ছিলো কালো মেঘে ঢাকা। হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টিও ঝরেছে স্থানে স্থানে। সেই সাথে ঝড়ো হাওয়া। সেসব বিদায় না নিতেই শীত এসে হাজির। এদিকে লেপ-তোশক, কাঁথা আর কম্বল, গরম পোশাক আলমারি থেকে বের করে রোদে দেয়ার সুযোগও পাননি হয়তো কেউ কেউ। আরেকটা বিষয় আমরা লক্ষ্য করছি যে, দুপুরের দিকে কোনো কোনো স্থানে একটু গরম। কিন্তু সেখানে আবার সকালে ঠা-া ও বিকেল হতেই শীত শুরু হয়। আবার কোনো কোনো স্থানে দুপুরের দিকেও শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকে। তাছাড়া রাস্তায় রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশা রয়েছেই। ফলে গাড়ি চালাতেও সমস্যা হচ্ছে। এসময় দুর্ঘটনা ঘটনার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই গাড়ি চালকদের এসময় খুবই সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার।

অপরদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের আতঙ্ক ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে এই শীতের জন্যে। শীত মৌসুমে করোনাভাইরাস কীভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করা যাবে, এ নিয়ে সরকার তোড়জোর করে শুরু করে দিয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাস্তায় নেমে পড়ছেন। মানুষকে বাধ্য করছেন মাস্ক ব্যবহার করতে। সেই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেও বাধ্য করানো হচ্ছে। যে তাপমাত্রায় এই ভাইরাসটি বাড়ে, সহজে সংক্রমণ করে এবং নিজেকে দ্রুত বিস্তার ঘটাতে পারে, শীতকাল সেটার জন্য আদর্শ মৌসুম। অতএব, শীতে করোনাভাইরাস মহামারী আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে। হাঁচি-কাশি দেওয়া হলে বাতাসে জীবাণুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাগুলো অনেকক্ষণ ধরে ভেসে থাকে। কিন্তু গরমের সময় সেটা দ্রুত ধ্বংস হয়ে গেলেও শীতের সময় অনেকক্ষণ ধরে বাতাসে থাকে।

ফলে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই করোনার জন্য শীত মৌসুম ঝুঁকিপূর্ণ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, শীতকালে করোনার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সুতরাং এ মুহূর্ত থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নেয়া দরকার। তাই এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

আপডেট সময় : ১১:২০ এএম

০২ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি, বুধবার

You might like