

মোঃ আমানুল্লাহ ফকির, মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি :
দলবল নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে তালাক দেওয়া স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অপহরণে অংশ নেয়া আরো একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত রিপন হাওলাদার(২৮) মাদারীপুর সদর উপজেলা কালিকাপুর ইউনিয়ন এর হোসনাবাদ এলাকার করিম হাওলাদারের ছেলে। শুক্রবার ( ১৩ আগস্ট) রাত ১০ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নিজ এলাকা থেকে আটক করে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ।

এর আগে, গত ৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চরনাচনা গ্রামে দলবল নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে তালাক দেওয়া স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ছয় ঘণ্টা পর অপহৃত ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ এবং একই দিনে অপহরণে অংশ নেওয়া বেলায়েত খান (৪৫) নামে এক সহযোগীকে আটক করেছিল পুলিশ। উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অজ্ঞাত ৭/৮ সহ ১৩ জন কে আসামী করে সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আটকৃত রিপন হাওলাদার মামলা ৮ নং ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি ছিল। তবে মামলার প্রধান আসমী বাবু হাওলাদার সহ অন্যান্ন আসামী এখনো পালাতক রয়েছে।
পুলিশ, নির্যাতিতার পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৯ এপ্রিল সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে বাবু হাওলাদারের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়। বিয়ের ৮ দিনের মাথায় ওই শিক্ষার্থী বাবুকে তালাক দেন। এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করে আসছিল বাবু। এসবের ভয়ে ওই শিক্ষার্থীকে রাজধানীর ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে আসে তার পরিবার। দীর্ঘদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসেন ওই শিক্ষার্থী। এদিন তার বিয়ের জন্য বাড়িতে মেহমান আসবে এমন খবরে সাবেক স্বামী বাবু দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ দলবল নিয়ে হামলা চালায়। এসময় তাদের বাধা দিলে নারীসহ ৩ জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবু ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার খবর পেয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কালিকাপুর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয় এবং অপহরনে অংশ নেয়া একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, আটককৃত রিপন হাওলাদার সহ মামলার অন্যান্ন আসমীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা বিভিন্ন সময়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহরা দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতো। এলাকায় মাদক ব্যবসা সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল তারা। এছাড়াও রিপন হাওলাদার এর নামে সদর থানায় একাধিক রয়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞাঁ বলেন, যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে সেদিনই অপহরনের সহযোগী একজনকে গ্রেফতার করেছি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজকে রাত ১০ টার দিকে মামলার আরো একজন আসমীকে গ্রেফতার কারা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।








