
কাকে নিয়ে লিখবো কবিতা, পংক্তির প্রজ্জলিত কররেখা! লিখবো যাকে নিয়ে তাকেতো সেই কবেই ফেলেছি হৃদয় থেকে ছিঁড়ে। মূল কথাটা কিন্তু এরকম হৃদয় ছেঁড়া কাব্যিক রকমের নয়; কথাটা আসলে এরকম যা পুরুষতান্ত্রিক এবং খুব কুৎসিত: তাকে আমি কবেই করেছি ডিভোর্স যদিও তার সঙ্গে আমার কিংবা আমার সঙ্গে তার কখনো ছিলো না বিবাহ নামক কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক।
তাহলে ডিভোর্স এর প্রসঙ্গ এলো কেনো! এলো এজন্য যে তার সঙ্গে আমার ছিলো পরস্পর প্রেমের সম্পর্ক এবং আমরা নিজেদের স্বামী স্ত্রী বলেই মানতাম – মনে মনে।তাই ডিভোর্সটাও হয়ে গেলো মনে মনেই।কিন্তু এসব কিছুই জানা নেই তার।এখনো সে নিখুঁত অভিনয় করে যাচ্ছে আমার সঙ্গে দিনরাত যেনো আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিবাহিত দম্পতিযুগল।আসলেই তাই? আমরাতো তা নই।

এ কেবল নিছক অভিনয় ছাড়া অন্যকিছুই নয়।অভিনয়টা করছে মূলত সে।একপাক্ষিক শুনে তো বোঝা যাবে না।আমিতো মিথ্যেও বলতে পারি! তাইনা?ভালো হয় তার কাছ থেকেও শুনে নেয়া।হ্যাঁ,আমি শুনে নিয়েছি।সরাসরি নয়।শুনেছি অবিনাশের কাছ থেকে।অবিনাশ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু যে নিজের থেকেও আমাকে ভালোবাসে অনেক বেশি যা শুধু আমি জানি,জানেনা অন্য কেউ আর।অবিনাশ বলেছে: সে,আমাকে নয়,ভালোবাসে অবিনাশকেই।
অবিনাশের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিলো।
জিজ্ঞেস করেছিলো: তাহলে এতোদিনের এই সম্পর্কের মানেটা কি? তুমি একটা অসভ্য মেয়ে।তুমি তো জানো অরিন্দম আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।সে বলেছিলো: “জানি।কিন্তু চলতে চলতে এক সময় আমি তোমাকেই ভালোবেসে ফেলেছি।”
আসলে আমরা তিনজন প্রায়শ একসঙ্গে আড্ডা দিতাম,সেই সুবাদে অবিনাশের সঙ্গেও ওর একধরনের বন্ধুতা তৈরি হয়ে গিয়েছিল কিন্তু সেই বন্ধুতা যে ভালোবাসার দিকে ডাইভার্ট হয়ে যাবে সে যে কল্পনাতীত – ভাবাই যায় না।সে,না পেলো অরিন্দম না পেলো অবিনাশ।
আমি জানি না- সে যাকে ভালোবাসা বলছে তা আদৌ ভালোবাসা কিনা,নাকি ভালোবাসা এরকমই হয়: একটি পাখি বন্দী হতে চায় অসংখ্য খাঁচায় কিংবা একটি খাঁচা থেকে উড়ে যেতে থাকে দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ তারপর পঞ্চম কোনো খাঁচায়, যে সকল খাঁচায় থাকে কিছু জৈবিক আধার আর অন্ধকার, থাকেনা ভালোবাসার মত কোনো অপরূপ মেঘবতী বর্ষণ রৌদ্র ছায়ার কারুকাজ সিঁদুরে আকাঁনো সিঁথি কিংবা সিঁদুর ভাঙানো কোনো প্রথাহীন প্রেম!








