এই সময়ে হাংরি জেনারেশন : যুবক অনার্য

এই সময়ে কেমন হবে হাংরি কবিতা-
কেমন হবে যদি শৈলেশ্বরের সংগে দেখা হয় মলয়বাবুর খালাসি টোলায়
মারামারি খুনোখুনি বন্ধুতা!
ইত্যাদি হতে পারে
হতে পারে- না দেখা চিরদিন।

ঘটনা যাইহোক হয়েছে এইটুকু- যেরকম
সকল দলেই হয়, হয় সকল ধর্মেও – জমি দখল হয় ময়দান দখল হয় দখল হয়ে যায় একটি গোটা দেশ সমুদ্রসীমা আর তার মৎসসমূহ, নারীরা হয়ে যায় হাতবদল
পুরুষও বদল হয় রাতের আলোতে আর
দিনের অন্ধকারে – রঙ বদলে যায় বিউটি পার্লারে যেভাবে বদলে দেয় ধূলোবালি মেখে!

মলয়বাবুর দখল থেকে চলে যায় শ্বৈলেশ্বরের দখলে।
শৈলেশ্বর ব্যাখ্যা করেন -কাকে বলে হাংরি জেনারেশন ব্যাখ্যা করেন -শক্তিদা’র একটি বুক রিভিউ থেকে
জন্ম নিয়েছিলো হাংরি আন্দোলন
মলয় বাবু বলেন- তিনি পেয়েছিলেন “হাংরি”
জিওফ্রি চসারের কাছ থেকে,
স্পেংলারের সেই কবেকার বইপত্র নেড়েচেড়ে।

একজন সমালোচক বলেন – আমাদের দেশেই তো থলে ভর্তি ক্ষুধারা জেগে থাকে রাতভর
তবে কেনো মলয়কে যেতে হবে চসারের কাছেই
যেতে হবে স্পেংলারের ক্ষুধার্ত ভাড়ারে!
এর উত্তরে মলয়বাবু কিছু বলেছেন কিনা
আমার জানা নেই যেহেতু আমার জানা নেই যে
আমি আমাকে জেনেছিলাম কিনা আর এসব কথাও আমার মনে পড়ছে না যে আমি কেমন কারণ
আমি দেখতে পারি নি তাকিয়ে আমার দিকে
আমাকে কোনোদিন!

আমার দৈর্ঘ্য প্রস্থ বেধ হয়তো হারিয়ে গেছে আমারই অগোচরে আমাকে উদাসীন ক’রে।
আমি কি চলে যাচ্ছি শৈলেশ্বরের দখলে
চলে যাচ্ছি মলয়বাবুর পাটনায় যেখানে একদা কেটেছিলো শক্তিদা’র বাষ্পীভূত দিনগুলো!
এরকম সন্দেহের কারণ তো আমি নিজে নই
সন্দেহ জাগে এই যারা দল বাজি টাজি করে
হিক্কা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায় অফিসপাড়া থেকে যে-কোনো পাড়ায় আর নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকেই ভাবে না কবি, ভাবে না কোনো কিছু
শুধু তারা স্ট্যান্টবাজ দিনভর রাতভর
কাদা ছোড়াঁছুড়ি কী সব লেগে থাকে খেয়োখেয়ি
প্রজেক্ট করে সুনীলদা’কে, শঙ্খ’দা আর করে
একে তাকে, করে যখন যা খুশি তাই

দেখে মনে হয়-
কবিতা বুঝি আজকাল হয়ে উঠেছে হার্বাল উৎসারিত বিফলে মূল্য ফেরত মালিশের মতো
যাকে বিকোতে হয় বাজারে ক্যানভাস ক’রে –
কবিতা কি এরকম কিছু!
কি বলেন এ প্রসংগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
এবং কি বলেন উত্তরসুরী জয় গোস্বামী!
জয় দাদা কি মনে করেন -সেই সময় নিয়ে এই সময়ে লেখা “সেই সময়”- পেয়ে গেছে ক্লাসিকের মর্যাদা!
হয়ে গেছে- “নিখিলেশ, তুই এসে দেখে যা”- ডাকসাইটে আধুনিকতাবাদ!
আমি সম্ভবত কী বলতে গিয়ে কী যেনো খেয়ে ফেল্লাম রকমের প্লাটফর্মে ফেঁসে গেছি!
যেমন রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন -“চাইলুম চাঁদা, পেলুম অর্ধচন্দ্র।”
আসলেই তো তাই – হাংরি কী হাংরি কার -এই নিয়ে কাগজে কলমে ঘষাঘষি হচ্ছে শুধু।
হচ্ছে না আবিষ্কার- সমগ্র শরীরে ভরপেট ক্ষুধা নিয়ে তবু করছি কেনো আমরা ‘ক্ষুধার্ত’র বিরোধিতা!

You might like