
যুবক অনার্য
আমি না হয় খুব কাছাকাছি একটি সময় যেমন গতকাল সন্ধাবেলার কথাই বলি।এই বলার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ডিউক নামের একটি পাগল ছেলে। পাগল মানে ভালোমানুষীর ক্ষেত্রে সে পাগল। কিংবা পাগলের মত ভালো যেনো বা ভালোত্ব নিয়ে পাগলামি।

একটি রেস্টুরেন্টে গতকাল ওর সঙ্গে বসেছিলাম কিংবা আমাদের সঙ্গে সে ছিলো বসে।আমরা মানে আমি জাকির পলি মলি রাসেল সারা ওমর।
আমরা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পিৎজা কফি অর্ডার করেছিলাম। খেতে খেতে ডিউক বললো:আপনি একটা গান লিখেন আমাদেরকে নিয়ে সেই “কফি হাউজের আড্ডাটি আজ আর নেই”- এরকম একটি গান।ব্রাকেটে বলে রাখি গানটি যিনি গেয়েছিলেন সেই মান্নাদে’ র সঙ্গে কফি হাউজের কোনো সম্পর্কই ছিলো না।ডিউক বলার পর আমি মুখোরোচক ভাবে বলেছিলাম – হ্যাঁ লিখবো।”হ্যাঁ” বলেছিলাম – ডিউককে “না” বলা যায় না বোলেই অগত্যা “হ্যাঁ” বলতে হয়েছিলো।”কফি হাউজের আড্ডাটা আজ আর নেই” বাংলা ভাষার অসম্ভব একটি জনপ্রিয় গান যদিও এটাকে আমার বস্তুত একটা কবিতা মনে হয়- এটা অবশ্য একান্তই আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গা থেকে বলা।আমি বলেছি বলেই এটা গান হয়ে যাবে তা নিশ্চয়ই নয়।আসলে কফি হাউজের বিষয়বস্তুকে আমার মনে হয়েছে- সমগ্র পৃথিবিটাই একটা কফি হাউজ। এখানে একদিন যা যেরকম থাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা আর সেইরকম থাকেনা।
তবে গানটি অবশ্য প্রচন্ড রকমের নস্টালজিক। নস্টালজিক গানের মধ্যে এটি সম্ভবত ১ নম্বর অন্তত বাংলা ভাষায়।সে যাইহোক, ডিউক আমাকে মুশকিলেই ফেলে দিলো- যিনি যে যোগ্যতা বিলং করেননা তাকে তা করতে বলা নিতান্তই বিব্রতকর।আমিও যথেষ্ট বিব্রত কিন্তু ডিউককে এড়ানো সম্ভব নয়, তাই ভেবেছি কোনওরকম একটা গান দাঁড় করিয়ে ওকে দিয়ে দেবো। ওর ইচ্ছে গানটা কাকন- কে দিয়ে গাওয়াবে।তারপর ৬ মাস কেটে গেছে।ডিউককে আমি এড়িয়ে চলি যেহেতু গানটি আমি লিখতে পারি নি।আমি চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু হয়নি।হয়নি কারণ ডিউকদের সাথে আমার সেই শূন্য দশকের গোড়ায় এবং মাঝামাঝি সময়ে সত্যি একটা কফি হাউজ মার্কা আড্ডা এবং সম্পর্ক ছিলো।
সেই সম্পর্ক আমি আজও টের পাই কিন্তু ৬ মাস আগে ডিউক যখন গান লিখবার কথা বলেছিলো সেদিন আমি টের পেয়েছিলাম শূন্য দশকের সেই কফি হাউজিয় সম্পর্কটি ভেঙে গেছে।ভেঙে গেছে একটি বিশেষ কারণে। যে কারণটির কারণে আমি আজও ওদের কাছে লজ্জা পাই, দেখলে এড়িয়ে চলি কিন্তু এসব কথা ডিউককে বলা যায় না।বললে অসুন্দর দেখায় এমনকি বলা যায় না পাঠকের কাছেও কারণ কফি হাউজের আড্ডাটি মূলত এভাবে বিভিন্ন কারনেই ভেঙে যায়।
প্রিয় ডিউক,যে – কফি হাউজটি ভেঙে গেছে তাকে নিয়ে গান লেখা আমার সম্ভব নয় অথচ মজার বিষয় হলো কফি হাউজ চিরদিন ভেঙে যায় বলেই “কফি হাউজের সেই আড্ডাটি” রকমের নস্টালজিক গান সৃষ্টি হয়।তাহলে আমি পারি নি কেনো!প্রতিভা নেই বলে!তাতো বটেই।আমি নিতান্তই প্রতিভাশূন্য মানুষ। তার চেয়ে বড় সত্য হলো আমাদের কফি হাউজের আড্ডাটা ভেঙে গিয়েছিলো মূলত আমারই কারণে, সেই গ্লানিবোধ আমি আজও বয়ে বেড়াই।

প্রিয় ডিউক,আমাকে ক্ষমা করে দিও- তোমার অনুরোধ রাখতে পারিনি বোলে। যিনি কফি হাউজের আড্ডা ভেঙে দেন তিনি কখোনই এরকম একটি বিখ্যাত গান লিখবার যোগ্যতা রাখে না।তিনি কেবল পারেন পালিয়ে বেড়াতে ফেরারি আসামির মতো।শুধু বলবো এইটুকু- গানটি লিখা হলে বা যদি লিখতে পারতাম তাহলে আমি দেখিয়ে দিতাম এবং সরল স্বীকৃতি দিতাম যে, সবখানে যেমন একটি নেতিবাচক খল চরিত্র থাকে আমাদের কফি হাউজের সেই নেতিবাচক ভূমিকাটি রেখেছিলো অবিনাশ মানে স্বয়ং আমি।এই সরল স্বীকৃতিতে আমার অপরাধ কি কিছুটা হলেও লাঘব হতো! আমি জানি হতো না।আর বুঝি তাই গানটি আর লিখতে পারিনি আমি কারণ কফি হাউজের আড্ডাটি আজ আর নেই যা আমি ভেঙে দিয়েছিলাম।এই অপরাধের কি কোনো ক্ষমা হয় -তুমিই বল ডিউক!








