
আজ জোছনার ঘরে গিয়ে হানা দেবো,
বলবো জোছনাকে:তুমি খুব অহংকারী
যেনো ক্ষুদে প্রজাপতি যেনো ঝলসানো রাধা
যে চিরকাল অপেক্ষমান থেকে যায়
একটি বাঁশির সুর তাকে ডাকবে বোলে,
যখন চরাচরে মধ্যরাত।
হানা দিয়ে, আমি কৃষ্ণ নই,তবু তোমায় নামিয়ে আনবোই পৃথিবীর লজ্জাবতী দিঘিটির পাড়ে। যেখানে কেটে যায় অন্নবস্ত্রহীন যুবতী মেয়েদেরও দিনরাত! তুমি বলবে হয়তোবা – ” আমি
নেমে এলেই কি অন্নহীনার জুটে যাবে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান!

ভাবলেই অবাক হবে তুমি-এসকল উদ্বাস্তুজনের জন্য বরাদ্দটুকু জোছনাও কেড়ে নেয় কতিপয়, যারা একটি বিশেষ ভবনের সদস্য- সম্মানিত,
যাহাদের বসবাস বাইশতলা ছাদের উপরে
যেখানে চলে নারীমাংস আর রঙিনজলের জিয়োনো উৎসব!
এ হলো একটিমাত্র অনুসঙ্গ। আছে আরও বিচিত্র বৈভব-বলতে গেলে রাত গড়িয়ে সুর্য আসবে নেমে। লোকজনে ছেয়ে যাবে চরাচর।
সংক্ষিপ্ত বলাই তবে সুবিধাজন:
আমার এক বন্ধু, দারুণ কন্ঠ তার।
সমস্যা অন্যখানে -একটি গানও তার করছে না হিট
তারচেয়ে অনেক কম স্কেলের টোন নিয়ে
ভাইরাল হচ্ছে কতো শতো গান -আলাই বালাই।
তার ইচ্ছে -অন্তত একটি গান পৌঁছে যাক
জনতার কাছে।
আমি জোছনার ঘরে হানা দিয়ে
জোছনা ছিন্তাই করে তার উঠোনে বেঁধে দেবো আর তাকে দিয়ে গাওয়াবো গান – ” অন্তরে অন্তরে”। সঙ্গতকারণেই সম্পুর্ণ লিরিক
লেখা হলনা, লিরিসিস্টদের আবার হাত টানের আছে জন্মগত অধিকার(!)।
কিন্তু সমস্যা বেঁধে গেলো একটি জায়গাতেই -জোছনা আমাকে মূল্য নির্ধারণ করতে বললো তার! কিন্তু জোছনা অন্ধকার গান কবিতা –
এসবের কোনো মুল্য হয় না -এসব অমূল্যসম্পদ।জোছনাকে আমার নামিয়ে আনা হলো না আর!
আমি অই বন্ধুকে দেখলেই চোরের মতো
এড়িয়ে যাই।একদিন টিটুর স্টলে চা খেতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলাম।বন্ধু আমার সঙ্গে খুব স্বাভাবিক এপ্রোচ ক’রে আমাকে ইজি করে নিলো।বললো তারপর – ” অবিনাশ, তোর সেই গান দিয়েই
একদিন আমি জোছনাকে নামিয়ে আনবো
মাটির পৃথিবীতে।” ঠিক তখনি আমার মাথায়
ধরা পড়লো -জোছনার মুল্যমান -এই যে জোছনার প্রতি যে ভালোবাসা, তাকে মাটির পৃথিবীতে নামিয়ে আনবার যে অদম্য ইচ্ছে – এই অবিসংবাদিত ইচ্ছের সমার্থক অনুসঙ্গই -জোছনা অন্ধকার কবিতা কিংবা গান।যেমন: অন্তরে অন্তরে….








