

নিউজ ডেস্ক : কুমিল্লার তিতাসে ত্রাণ দিতে গিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী একা নারীকে (৩৮) ধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাসকান্দী বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটকরা হলেন, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের পোড়াকান্দি গ্রামের কথিত ত্রাণ বিতরণ দলের প্রধান আলী নুর ওরফে আলী (৪৫), চকেরবাড়ি এলাকার বাবু (৪০), হরিপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক ইদন মিয়া (২৫), আরিফ হোসেন (৩০), দাসকান্দির নুর মোহাম্মদ (২৫) এবং একই এলাকার বিদ্যুৎ মজুমদার (৩৫)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি কাজী নাজমুল হক জানান, বুধবার দুপুরে মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী স্থানীয় দাসকান্দী বাজারে ত্রাণের জন্য গেলে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ঘটনাটি ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের কাছে পৌঁছালে শুক্রবার সকালে ত্রাণ দলের প্রধান আলী নুর ওরফে আলীসহ ৬ জনকে দাসকান্দী বাজারে ডেকে আনা হয়। এক পর্যায়ে তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। পরে সবাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
রোববার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায়
কুমিল্লা থেকে অপহৃত মা-শিশু কক্সবাজারে উদ্ধার
নিউজ ডেস্ক : কুমিল্লা থেকে অপহরণের তিনদিন পর কক্সবাজার শহরের সৈকতপাড়া এলাকা থেকে মা ও শিশুকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১৫।
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে অপহরণের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
অপহরণের শিকার মা ও শিশু কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার আশোকতলা এলাকার বাসিন্দা।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আবুল কালাম চৌধুরী জানান, বুধবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড মোড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হন মা ও শিশু। পরে স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ভিকটিমের পরিবার। না পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়।
নিখোঁজের তথ্য পেয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব-১৫। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার সৈকতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণের শিকার মা ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
নেটদুনিয়ায় ছাত্র-জনতা হত্যার রোমহর্ষক সব ভিডিও, এখনো ট্রমায় স্বজন-প্রত্যক্ষদর্শীরা
নিউজ ডেস্ক : গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন ঘিরে একে একে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
ইতোমধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ছাত্র-জনতা হত্যার নারকীয় একাধিক ভিডিও। রোমহর্ষক সেসব ভিডিও দাগ কাটছে সবার মনে। অন্যদিকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের স্বজনরা মাসখানেক পরও ট্রমার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়লে ঢাকার অন্যান্য এলাকার মতো যাত্রাবাড়ীতেও বের হয়েছিল বিজয় মিছিল। সেদিন লাখো জনতা যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সাধারণ মানুষ মৃত-আধমরা নিথর দেহ ভ্যানে তুলে নিয়ে যান হাসপাতালে।
সেদিন যাত্রাবাড়ীর ওই মিছিলে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান ইমন গাজী। মাসখানেক পর ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় ইমনকে। রক্তভেজা নিথর দেহে প্রাণ তখনও ছিল। তবে যাত্রাবাড়ী থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি ইমনকে। ভ্যানে থাকা অন্যদেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ইমনের পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও চার সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ছোটজনের বয়স ১৪ মাস। আর বড় মেয়ের বয়স ১২ বছর। ইমনকে হারিয়ে এখনো ট্রমার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন তার স্ত্রী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রাতে আমার ঘুম আসে না। দিনেও একভাবে চুপকরে বসে থাকি। আমার মা আমাকে দেখে বলেন- এভাবে চললে ছেলে-মেয়েদের কে লালন-পালন করবে।
স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা এই গৃহবধূ বলেন, আমার স্বামী আমাকে বাইরে কোনোদিন কাজ করতে বলেননি। এখন আমি আমাদের সন্তানদের লালন-পালনের উপায় দেখছি না।
যাত্রাবাড়ী এলাকার ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের মানুষ যেমন দেখেছেন, তেমনি ইমনকে রক্তভেজা অবস্থায় দেখেছে তার ছোট্ট সন্তানেরাও। কথা হলে ইমনের ছেলে জানায়, ভ্যানের ওপর আমার আব্বুকে দেখেছি তার গেঞ্জিতে রক্ত। অন্যদিকে ইমনের ১২ বছর বয়সী মেয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে, ‘ওরা (পুলিশ) আমার আব্বুকে কেমনে মারছে, আমার আব্বু কখনো কারও ক্ষতি করতো না। আমার আব্বুরে শুধু শুধু মারছে।
৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে যখন এমন মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয়, তখন ঢাকার আশুলিয়াতেও প্রায় একই ধরনের নির্মম ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ছোট্ট একটি ভ্যানে পুলিশ স্তূপ করে রাখছে কিছু মরদেহ। পরে রক্তাক্ত মৃতদেহগুলো ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাইরাল ভিডিওতে ভ্যানের পাশে দেখা যায় দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের। তাদের সবার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া গেলেও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আরাফাত হোসেনকে চিহ্নিত করা গেছে।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটিও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দেখেছেন। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের এমন নির্মমতায় ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। আশুলিয়ার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, ছয়জনের লাশ এখানে ভ্যানে ওঠানো হয়। পরে ভ্যান দিয়ে পুলিশের গাড়িতে লাশগুলো তোলা হয়। তারপর পুলিশের গাড়িয়ে আগুন দিয়ে লাশগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়। আগুন নেভানোর পর অনেককেই চেনা যাচ্ছিল না। পরে আমরা কয়েকজনকে হাসপাতালেও পাঠাই।
প্রত্যক্ষদর্শী আরেকজন বলেন, ঘটনার পর মরদেহগুলোর মধ্যে আমতলা এলাকায় দুইজনকে কবর দেয়া হয়। আর চারজনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনায় এখনো ট্রমার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরাও। সে সময়ে লাশের সারির ভয়ানক সেই স্মৃতি ভুলতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তারা। যাত্রাবাড়ী এলাকার ৫ আগস্টের ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রিকশায় শুধু লাশ আর লাশ যেতে দেখেছি। এক হাত দূর থেকে এসে পুলিশ গুলি করছে, আর একটার পর একটা লাশ পড়ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী অপর একজন বলেন, ‘সত্যি বলতে, সেদিনের ভয়ানক স্মৃতি এখনো ভুলিনি। এখনো আমাকে ঘুমের ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। চোখ খোলা থাক কিংবা বন্ধ, এখনো লাশের সেই মিছিল দেখতে পাচ্ছি।’












