

হুট করে কাধে সবেই মিঠু বলেছে, মীনা তুমি ইশকুলে যাইবা না। কার্টুন – ছবি মীনা শিক্ষামূলক হওয়া সত্ত্বেও সব শ্রেণীর দর্শকের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। কারণ কার্টুনটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপেেট তৈরি এবং এতে বয়েছে 2-D অ্যানিমেশনে পৃথিবীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। ভারতের রামমোহনের তত্ত্বাবধানে কার্টুন মীনার ১০/১২ মিনিটের একটি পর্ব তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা অথচ মাত্র ১০/১২ লক্ষ টাকায় কার্টুনটি বাংলাদেশে নির্মাণ করা যেতো।2-D অ্যানিমেশনে আমাদের ভালো ভবিষ্যৎ রয়েছে এবং পরিশ্রম করলে ভালো উপার্জন সম্ভব। প্রথমে জানা দরকার 2-D অ্যানিমেশন কি।
সাধারণভাবে পর্দায় যে কৃত্রিম দৃশ্য দেখা যায় সেগুলো সবই অ্যানিমেশন। যে অ্যানিমেশনে দৈর্ঘ ও উচ্চতা এ দুটি মাত্রা রয়েছে অর্থাৎ সমতলে করা কোনো উচ্চতা নেই সেগুলো 2-D অ্যানিমেশন। যেমন- টম অ্যান্ড জেরি, মীনা, থান্ডার ক্যাটস। আর যেগুলোতে দৈর্ঘ্য, গ্রন্থ, উচ্চতা তিনটিই রয়েছে সেগুলো 3-D অ্যানিমেশন। স্পেশাল এফেক্টর জন্য বিখ্যাত টাইটানিক-এ ধরনের বহু 3-D অ্যানিমেশন রয়েছে। 3-D অ্যানিমেশন পুরোটাই কমপিউটারে করা হয় বলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে সম্পাদনা করা যায়।

2-D অ্যানিমেশন কমপিউটার প্রযুক্তি যাতোই আধুনিক হোক, হাতে আকা ড্রয়িং ছাড়া গতি নেই। এ ধরনের অ্যানিমেশনে এক সেকেন্ডের একটি চলমান দৃশ্যে স্থির ড্রয়িং প্রয়োজন অন্ততপক্ষে আটটি। বেশি হলে ২৪টি। সে হিসেবে ১০ মিনিটের একটি কার্টুনে ড্রইং প্রয়োজন কম হলেও ৪৮০০টি। ক্যারেকটারের মুভমেন্ট দ্রুত হলে সেটাকে নিখুঁত করার জন্য সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ২৪টি ফ্রেমও (একটি ড্রইং শিটকে বলা হয় ফ্রেম) তৈরি করা হয়।মানুষের চোখ সর্বনিম্ন সেকেন্ডের ১০ ভাগের এক ভাগ সময়ে দুটো প্রতিবিম্বের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে। সে হিসাবে সেকেন্ডে = ১০টার চেয়ে যতো বেশি ফ্রেম ব্যবহার করা হবে ক্যারেকটারের মুভমেন্ট ততো তীক্ষ্ণ হবে।
কাজেই বোঝা যাচ্ছে, কাজটি যথেষ্ট পরিশ্রমসাধ্য। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল।2-D অ্যানিমেশনে সাফল্য পেতে হলে এটিতে ইন্ডাস্ট্রির মতো তৈরি করতে হবে। এতে দরকার প্রচুর পরিশ্রমী শিল্পী। মাত্র তিন জনে 2-D অ্যানিমেশনে ভালো করা যে আদৌ সম্ভব নয়। দরকার ২০/২৫ জনের একটি টিম।2-D অ্যানিমেশন: প্রথমে তৈরি হয় স্টোরি বোর্ড। একটা বড় কাগজে একেকটি এছে সিকোয়েন্সকে একেকটি ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। সে সঙ্গে লেখা। থাকে তিনটি তথ্য। কতো সেকেন্ডের সিকোয়েন্স, মুভমেন্ট কি ধরনের এবং অডিও কি যাবে- পুরো অ্যানিমেশনটিকে সংক্ষিপ্ত করে প্রকাশ করা হয়। চলচ্চিত্রের চিত্রনাটা ব্যাপারটাও একই ধরনের। স্টোরি বোর্ডেই ঠিক করা হয় ক্যারেকটারের আকৃতি, বিশেষত্ব কি হবে?
এরপর তৈরি করা হয় এক্সপোজোর শিট। এটিই অ্যানিমেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সৃষ্টিশীল পর্ব। এক্সপেজার শিটে যাবতীয় দৃশ্যের বিস্তারিত তথ্য থাকে। এই শিট অনুসারেই পুরো ড্রইং শেষ করা হয়।
উল্লেখ্য, একটি অ্যানিমেশনের এক হাজার ফ্রেম এক জন অ্যানিমেটর তৈরি করে না। এটি একটি টিম ওয়ার্ক। এক্সপোজার শিটে এমনভাবে তথ্য থাকে যেন যে কেউ যে কোনো দৃশ্য থেকে ড্রইং শুরু করতে পারে এবং প্রত্যেকের ড্রইং একই হয় এক্সপোজার শিটের কারণেই। বহু – কার্টুনের এক্সপোজার শিট তৈরি হয় আমেরিকায় অথচ এ জন্য ড্রইং হয় অন্যান্য দেশে।এরপর শুরু হয় সবচেয়ে পরিশ্রম পর্ব। অর্থাৎ ড্রইং। হাজারে হাজারে ড্রইং হয় প্রথমে পেন্সিলে। তারপর ট্রায়াল।
ট্রায়ালের পর চূড়ান্তভাবে আকা হয় র্যাপিডোগ্রাফ কলম দিয়ে। স্কেচগুলো প্রথমে স্ক্যান করে কমপিউটারে নেয়া হয়। এরপর ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর প্রভৃতি সফটওয়ারের মাধ্যমে ফ্রেমগুলো রঙিন করা হয়। সবশেষে প্রিমিয়ার, ডিরেক্টর প্রভৃতি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এডিট করা হয়।অ্যানিমেশনের শেষ ধাপগুলো ফ্লিপ স্টুডিও ওপরের বর্ণনা অনুযায়ী করে। কিন্তু প্রক্রিয়াটি আধুনিক নয়।
এভাবে অ্যানিমেশনের গুণগত মান উন্নত রাখা সম্ভব কিন্তু প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে সেটা করতে হবে দ্রুত। উন্নত কিছু সফটওয়ারের মাধ্যমে পুরো কাজটা অনেক তাড়াতাড়ি শেষ করা সম্ভব।সমস্যা হলো, এই সফটওয়্যারগুলো খুব দামি। অত্যন্ত আধুনিক একটি অ্যানিমেশন সফওয়্যার (অ্যানিমো)-এর চারটি প্যানেলের একেকটির দাম প্রায় ১২ হাজার পাউন্ড। মোটামুটি আধুনিক সফটওয়্যার সিটিপির দামই সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো। আশার কথা, ফ্লিপ স্টুডিও জানালো তারা শিগগিরই সিটিপির সংযোজন নেবে।2-D অ্যানিমেশনের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল?
বিদেশে ছোট পর্দায় বহু সফল বিজ্ঞাপন 2-D অ্যানিমেশন তৈরি হয়েছে। কোকাকোলার এ ধরনের একটি অ্যাড (ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে থাকে) দেশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। এ ছাড়াও এনজিওগুলোর বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিজ্ঞাপন করা যায়। 2-D অ্যানিমেশনে ভালো করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজার ছাড়া গতি নেই। ভারতের রামমোহন তৈরি করে ফেলেছেন পুরোদস্তুর অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রি। নেপালের নির্মলও আট বছরের অভিজ্ঞতায় এখন সফল অ্যানিমেটর। তাহলে আমরা পারবো না কেন? আমাদেরও এগুতো হাবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে।
মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৪
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা










