

হিসাব মেলাতে পারছি না। দেশের একজন শীর্ষ রাজস্ব খেলাপী কিভাবে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হয়? তাও বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়? যিনি জুলাইয়ের গণহত্যা মামলার অন্যতম আসামি? তিনি কিভাবে সরকারের উপদেষ্টা হন?
আশার কথা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে ‘বিতর্কিত উপদেষ্টা নিয়োগ শহীদের রক্তের অবমাননা’। বিএনপি’র পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন তোলপাড়। কিন্তু কেন?

৯০ এর দশকে আমি যখন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় তখন আমার একটি আলোচিত রিপোর্ট ছিল আকিজ গ্রুপের ঢাকা টোব্যাকো এবং এশিয়ান টোব্যাকোর ৫৬৮ কোটি টাকা রাজস্ব ফাকি। যা ছিল ঐ সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রাজস্ব ফাঁকি। কিন্তু এনবিআর বহু চেষ্টা করেও এই গ্রুপের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুল মূয়ীদ চৌধুরী এই রাজস্ব ফাঁকি ধামাচাপা দিতে সহায়তা করেন।
দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় এ নিয়ে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। আমি অর্থমন্ত্রীর রোষানলে পড়ি। এনবিআরের রোষানলে পড়ি। বাংলাবাজার পত্রিকা থেকে আমাকে চাকুরিচ্যুতির চেষ্টা করা হয়। আমাকে বিপুল অংকের অর্থের প্রলোভন দেয়া হয়। কিন্তু আমি নীতিতে অটল থাকি। শেষ পর্যন্ত আবদুল মূয়ীদ চৌধুরীকে দুর্নীতি দমন কমিশনে তলব করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক মূখ্য সচিবের তদবিরে তিনি রেহাই পান।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে এই বিপুল অংকের রাজস্ব আর আদায় করা সম্ভব হয়নি। আইনী মারপ্যাচে ফেলে সব কিছু ধামাচাপা দেয়া হয়। কিন্তু এরপরেই বেড়ে যায় আকিজ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেপরোয়া রাজস্ব ফাঁকি। যা নিয়ে দেশের সংবাদ মাধ্যমে বহু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এখনও হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী সরকারের প্রভাবে আকিজ গ্রুপের বিরুদ্ধে এনবিআর এবং দুর্নীতি দমন কমিশন অসহায় হয়ে পড়ে। সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আত্মসাৎ করা হলেও দায়ী কারও বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যায়নি।
এখন সেই আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অন্তবর্তীকালীন সরকারের বানিজ্য উপদেষ্টা? সত্যিই মিরাকল। এদেশে সবই সম্ভব। যেই শিল্পগ্রুপ দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাকি বা আত্মসাতের সাথে জড়িত। যারা ক্ষতিকর তামাক ব্যবসার সাথে জড়িত। সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে যারা সম্পদের পাহাড় গড়েছে। সেই শিল্পগ্রুপের কর্নধার কিভাবে সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান?
সংবাদ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে এই উপদেষ্টা নাকি জুলাইয়ের গনহত্যা মামলার অন্যতম আসামী। যেখানে তার ছোটভাই আওয়ামী সরকারের সাবেক এমপিও আসামী। দুই আসামীর নাম এবং পিতার নামে ভুলক্রমে ভুইয়া উপাধী দেয়া হয়েছে। শেখ উপাধীর এই দুই ভাইয়ের যে ঠিকানা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক। তাহলে তিনি অস্বীকার করছেন কিভাবে? এখানে তো নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন জড়িত। সত্যিই অভাবনীয়।
বিতর্কিতদের উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিবাদ করছে। বিক্ষোভ করেছে। শেখ বশিরউদ্দিনকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে অপসারণ করতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপ্লবী ছাত্র-জনতা নামের একটি প্ল্যাটফরম।
ফেসবুকে একটি পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ আজ বিকেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি ঘোষনা করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি না জনগনের আশার আলো, দু:শাসন থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যে যে সরকার গঠিত হয়েছে তারা কেন বিতর্কিতদের উপদেষ্টা বানিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে নিজেদের বিতর্কিত করছেন?
একজন সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে আমি এই বিতর্কিত উপদেষ্টা নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
লেখক : হেলাল উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক।
মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪২৭ কার্তিক ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?








