ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন জরুরী : বন্ধ হচ্ছে আকাশমণি গাছ রোপণ

সম্পাদকীয়

আকাশমণি /ইউক্যালিপ্টাস নিয়ে প্রায় সবার অভিযোগ, এটি মাটি থেকে বেশি পানি শোষণ করে। ফলে মাটি শুকিয়ে যায়। যেখানে ইউক্যালিপ্টাস লাগানো হয়, সেখানে অন্য কোনো গাছ বা ফসল হয় না। বিশ্বব্যাপী এই বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণায় দেখা গেছে, ইউক্যালিপ্টাস মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি গ্রহণ করে এবং তা থেকে যেটুকু কাঠ উৎপাদন হয়, অন্য প্রজাতির বৃক্ষ একই বা বেশি পরিমাণ পানি গ্রহণ করেও সেটুকু কাঠ উৎপাদন করতে পারে না।

দেশীয় অনেক গাছ, যেমন সাদা কড়ই, ইউক্যালিপ্টাস-এর তুলনায় মাটি থেকে বেশি পানি শুষে নেয়, এমন প্রমাণও রয়েছে। আকাশমণি গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে টিকই কিন্তু এই গাছের কাঠ তেমন উন্নত মানের হয় না। এই গাছের ফল মানুষ খেতে পারে না। সব চেয়ে খারাপ যে টা তা হলো আকাশমণি গাছের ফুল থেকে প্রচুর পরিমাণে পরাগ রেণু বের হয় যা মানুষের জন্য এলার্জিক। ইউক্যালিপটাসও আমাদের দেশী গাছ নয়। বিদেশী গাছ। তাড়াতাড়ি বাড়ে। এর কাঠ ও তেমন উন্নত মানের নয়। গাছের ফল মানুষ খেতে পারে না। এই গাছের সব চেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে- এরা প্রচুর পরিমাণে পানি খায়। এরা এতো বেশী পানি শোষণ করে যে, এই সব গাছের আশেপাশে জলাশয় না থাকলে মাটিতে রসের পরিমান কমে যেতে পারে। ফলে অন্য ফসল কিংবা গাছের জন্য পানির সমস্যা হতে পারে। খরা মৌসুমে এটা আরো প্রকট হতে পারে।

গত ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ‘পলিথিনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বন্ধ হচ্ছে আকাশমণি গাছ রোপণ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমরা পাঠকমাত্র জেনে অভিভূত হয়েছি। এতে আমরা জেনেছি যে, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে পলিথিনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং পরিবেশ বিধ্বংসী আকাশমণি (ইউক্যালিপটাস) গাছ রোপণ বন্ধে কঠোর অবস্থান বেশ আলোচিত হয়েছে। এছাড়া নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কার্যক্রমও। ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটি (ইউএনসিবিডি) এবং ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (ইউএনএফসিসিসি) আয়োজনে গত ১১ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত আজারবাইজানের বাকুতে ২৯তম জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৯ এ সিভিল সোসাইটি, এনজিও এবং স্থানীয় অধিবাসীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে খসড়া পজিশন পেপারে তাদের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শিগগিরই সেটি চ‚ড়ান্ত করা হবে। এটি সত্যিই আশাবাদী যে, পরিবেশ রক্ষায় যুক্ত করা হয়েছে তরুণদের, বাড়ানো হচ্ছে জবাবদিহি। পরিবেশের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমে ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য প্রবাহ অবাধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করার জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া, এনফোর্সমেন্ট, অর্থদণ্ড ও আপিলের সিদ্ধান্তের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ ও অন্যান্য বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আগত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে সমাধান করা হয়েছে। সাভারে ব্যাটারি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম চলবে।

গবেষকদের গবেষণায় আমরা জানতে পেরেছি যে, এ গাছের ফল পাখিতে খায় না। পাখি বাসাও বাঁধে না। গাছের পাতা মাটিতে পড়ে সহজে পচে না। যেখানে পড়ে, সেখানে অন্য ফসল হয় না। এ গাছের কাঠের যে খুব মূল্য আছে, তা–ও মনে হয়নি। এই গাছের ফুলের রেণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়। মানুষের ফুসফুসের ক্ষতি করে। শ্বাসকষ্টজাতীয় সমস্যার সৃষ্টি করে। আকাশমণি আমাদের দেশীয় গাছ নয়। আমাদের প্রকৃতিবিরুদ্ধ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। দেশের পাখিসহ জীবজগৎকে বাঁচানোর জন্য এই গাছ রোপণ না করে আদি দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ করা জরুরি।

রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪২ অগ্রহায়ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like