শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে

সম্পাদকীয়

সৃজনশীলতার বিকাশ না হলে শিক্ষাই বৃথা। আর সৃজনশীলতার পরিপূর্ণতাই হচ্ছে একজন মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সর্বদিক থেকে বিবেচনা করলে সৃজনশীলতা প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সৃজনশীলতার অভাবেই মানুষ নিজেকে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে পারে না; যদিও সে পড়াশোনা করেছে। অতএব, পড়াশোনার পূর্বশর্ত সৃজনশীল হওয়া।

গত ২০ নভেম্বর ২০২৪ ‘শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীলতার কতোটা গুরুত্ব রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশে উদ্যোক্তাদের একটি প্রজন্ম তৈরি করতে হলে, শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে।

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল চাকরিপ্রার্থী তৈরি করে। এটি একটি ত্রæটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার করা উচিত যাতে এটি একটি প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আমাদের এমন শিক্ষাব্যবস্থা দরকার, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মানুষ হতে সাহায্য করবে। আমাদের তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতার যে সম্ভাবনা রয়েছে তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশে এমন শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা উচিত নয় যেখানে শুধু পরীক্ষার নম্বরের ওপর জোর দেওয়া হয়। পরীক্ষার নম্বর কত পেল সেটাই সবকিছু নয়, এটি সবার উপলব্ধি করা উচিত। আমাদের অবশ্যই নতুন প্রজন্মের ভাষা, তাদের আকাক্সক্ষা এবং তাদের চিন্তার প্রক্রিয়া বুঝতে হবে। আমাদের জানতে হবে কীভাবে প্রবীণ প্রজন্ম তাদের অভিজ্ঞতা তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে পারে। তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে, এটি সমস্যা তৈরি করবে। আমাদের অবশ্যই দুই প্রজন্মের মধ্যে ধ্যান-ধারণার ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে।’

অতএব, পারিবারিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হলে অবশ্যই সৃজনশীলতার প্রয়োজন রয়েছে; যখন শিক্ষায় আমরা অবস্থান করি। সাধারণত মূল্য বলতে আমরা আর্থিক মূল্য বা দামকেই বুঝি। তবে মূল্যের সামর্থক শব্দ হিসেবে আমার ভালো, মন্দ, সুন্দর প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার করি। মূল্যবোধ হচ্ছে সেই সব নিয়মনীতি যার দ্বারা আমার ভুল ও সঠিক, উচিত ও অনুচিত, ভালো ও মন্দ প্রভৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। এই সব নিয়মনীতি আমাদের আরও বলে দেয় কোনটি প্রয়োজনীয়, কোনটি বেশি বা কম গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবোধ সঠিক আচরণ ও সুষ্ঠু-সুন্দর-কাক্সিক্ষত জীবন গড়তে সহায়তা করে। মূল্যবোধ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন : নৈতিক মূল্যবোধ, পেশাগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নান্দনিক মূল্যবোধ ইত্যাদি। একজন আদর্শ মানুষ হওয়ার জন্য সব ধরনের মূল্যবোধের সমন্বয় থাকা আবশ্যক।

নৈতিক চেতনা মানুষের অন্তস্থ এক শক্তি। এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, ঔচিত্য-অনৈচিত্যের মধ্যে পার্থক্যবোধ সৃষ্টি করে। জীবন চলার পথে মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যে কোন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত বা উচিত নয়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোন ব্যক্তির এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর তার জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করে। তাছাড়া এই সিদ্ধান্তের যথার্থতা ব্যক্তির জীবনের মূল্যমান নির্ধারণ করে। এই উচিত-অনুচিত, ভালো-মন্দ বিচারের জন্য যে মূল্যবোধ তাই নৈতিক মূল্যবোধ। নৈতিক মূল্যবোধ এমন এক অনন্য শক্তি, যা প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে রয়েছে।

এ শক্তির মাত্রার দিক থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও এই অনন্য অন্তর্শক্তি প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যেই কম বেশি অবস্থান করে। আমরা যখন বলি যে, ‘সক্রেটিস একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন’ তখন ব্যক্তি ‘সক্রেটিস’ নৈতিক মূল্যবোধ ‘সততা’-এর সঙ্গে একটি সম্পর্ক স্থাপন করে। আর এভাবেই আমরা নৈতিক মূল্যবোধ বিচার করি। এখানে ‘সততা’ নামক নৈতিক গুণটির প্রতি সক্রেটিস যে অনুরাগী ছিলেন তাই প্রকাশ করেছে। কাজেই নৈতিক মূল্য সম্পর্কিত এক ধরনের উপলব্ধিকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা হয়। মানুষ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা। তবুও, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা চাকরিপ্রার্থী তৈরি করে। এটি একটি ত্রæটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার করা উচিত, যাতে এটি একটি প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

আমাদের এমন শিক্ষাব্যবস্থা দরকার, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মানুষ হতে সাহায্য করবে। আমাদের তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতার যে সম্ভাবনা রয়েছে তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশে এমন শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা উচিত নয় যেখানে শুধু পরীক্ষার নম্বরের ওপর জোর দেওয়া হয়। পরীক্ষার নম্বর কত পেল সেটাই যে সবকিছু না, এটি সকলের উপলব্ধি করা উচিত। শিক্ষা, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক- এই তিনটির মধ্যে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। ছাত্রছাত্রী তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

শিক্ষক হলো মূল্যবোধ বিনির্মাণের আদর্শ কারিগর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো মূল্যবোধ চর্চার অনন্য কারখানা। শিক্ষার মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রী তথা সমাজের মধ্যে মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। শিক্ষা ভালো-মন্দ বিচার করতে শেখায়। আর এই ভালো-মন্দের বিচার মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানুষের উপযোগী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধের কোন বিকল্প নেই। আমাদের সমাজে বর্তমানে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় চলছে। পাশ্চাত্যের স্টাইলে গড়ে উঠছে সমাজব্যবস্থা। মূল্যবোধের অভাব এবং মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক হলেন সমাজের আয়না।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা কোন বিষয়ে হয়তো বাবা-মা’র কথা শুনছে না, কিন্তু শিক্ষকের কথা শুনছে। বাবা-মার পর ছেলেমেয়েরা শিক্ষকদেরই তাদের জীবনপথের কাণ্ডারি হিসেবে বিবেচনা করে। মূল্যবোধের এই চরম সংকট মুহূর্তে দেশের শিক্ষক সমাজের পেশাগত মূল্যবোধের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত, পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষসহ সমাজ ও রাষ্ট্রে মূল্যবোধ বিকাশের জন্য সর্বাত্মক ভ‚মিকা রাখতে হবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুণে ধরা মূল্যবোধকে শিক্ষক সমাজই আবার জাগিয়ে তুলতে পারেন। তাই শিক্ষার্থী, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রধান কর্নধারের ভূমিকা পালন করতে হবে শিক্ষক সমাজকেই। এর কোন বিকল্প নেই।

শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০২৪

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like