গুগলের ডিস্টিংগুইশড ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশী জাহিদ সবুরের বিশ্ব জয়ের গল্প

তথ্য-প্রযুক্তি কণ্ঠ ডেস্ক :

জাহিদ সবুর একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রকৌশলী, যিনি বর্তমানে গুগলের ডিস্টিংগুইশড ইঞ্জিনিয়ার এবং সিনিয়র ডিরেক্টর পদে কর্মরত। তিনি গুগলের Gemini AI অ্যাপ প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন। জাহিদ সবুর ২০০৭ সালে গুগলে যোগ দেন এবং এখন গুগলের শীর্ষ প্রকৌশলীদের একজন। তাই বলা যায় গুগলের একজন মগজ তিনি এবং বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের গর্ব ও আজকের কিশোর-তরুণ-যুবক শ্রেণির ভবিষ্যৎ পথচলার আইকন।

আজকে তথ্য প্রযুক্তি কণ্ঠ’র বিভাগীয় পাতা থেকে তার বিশ্বজয়ের গল্প শুনবো স্বীয় জবানিতে :

আপনারা অনেকেই হয়তো আমার – “পারবে না” শোনার দেশের, থেমে না যাবার গল্প – সেই ভিডিওটা দেখেছেন। ভিডিওটার ভিউ এখন ৮৩ লক্ষ পেরিয়েছে দেখলাম। আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থার হাজারো প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে কতটা যুদ্ধ করে করে এগিয়ে যেতে হয়েছে, সেখানে তার অনেকটাই তুলে ধরেছিলাম। আমি যদিও মোটিভেশনাল স্পিকার নই কিন্তু সেই গল্পের কারণে অনুপ্রাণিত হয়ে অগণিত মানুষ আমাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আর প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ আমাকে ফেইসবুকে ফলো করেছেন।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমি উপলব্ধি করি যে আসলে নিজে করে দেখানোর চেয়ে বড় মোটিভেশন হয়তো আর কিছুই হতে পারে না। একই সাথে আবার সেই অগণিত মানুষের ভালোবাসাই উল্টো আমাকেই মোটিভেশন যোগায় আরও এগিয়ে যেতে। সেই সব কিছুর বিনিময়েই হয়তো আজকে আপনাদের সাথে এমন একটা সুখবর শেয়ার করতে পারছি যেটার মূল্য বা মর্ম আমি নিজেও হয়তো এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। আশাকরি সামনের দিনগুলোতে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারব।

আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন যে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে আমিই সর্বপ্রথম সরাসরি গুগলে যোগ দিয়েছিলাম সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে, সেটা ছিল লেভেল ৩ পদে। তারপর একে একে ৫টা লেভেল পার করে ২০১৯ সালে আমি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গুগলে প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার পদে পদোন্নতি পাই। যেটা লেভেল ৮ এবং একই সাথে পরিচালকের পদ। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে গুগলে সর্বমোট কর্মীর সংখ্যা এখন দেড় লাখের উপড়ে। আর শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যাই লক্ষাধিক।

আমি সবসময় বলি যে জীবনে context অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের অর্জনের সার্থকতা বা মর্ম বুঝতে হলে সে কি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কতটা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেটা অর্জন করেছে সেটা বোঝা খুবই জরুরি। যে বাংলাদেশে আজও বিশ্বের টপ ৫০০ র‍্যাঙ্কিং এর মধ্যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই বলে কত না আক্ষেপ, সেই বাংলাদেশেরই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে কেউ কখনো গুগলে প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের মতো উচ্চপর্যায়ে যেতে পারবে এমনটা আশা করলেও যে মানুষ পাগল ভাবতো এমনটাই আমাদের সমাজের বাস্তবতা।

স্বাভাবিক ভাবেই সেই সমাজে বেড়ে উঠে এমনটা অর্জনের স্বপ্ন দেখার অবকাশ পর্যন্ত ছিল না আমার। তারপরও বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যখন সেখানে পৌঁছেও যাই, তখনও কিন্তু স্বপ্নেও ভাবিনি যে এরও উপড়ে যাওয়া সম্ভব। কারণ এর উপড়ের পদের নাম Distinguished Engineer অর্থাৎ একদম আক্ষরিক অর্থেই এই পদের নাম “বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার”। যেটা লেভেল ৯ এবং একই সাথে গুগলের ঊর্ধ্বতন পরিচালকের পদ।

গুগলের লক্ষাধিক ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে যোগ দিতে পেরেছে সেই সংখ্যাই যেখানে এখনও মাত্র কয়েকশো হবে, সেখানে তেমনই এক বাংলাদেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সম্বল করে কেউ আবার পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গুগলের “বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার” হবে – এ আবার কেমন গাঁজাখুরি স্বপ্ন? … কিন্তু জীবনটাই এমন যে বাস্তবতা আসলেই কখনো কখনো স্বপ্নের চেয়েও অদ্ভুত হয়!

গুগলের লক্ষাধিক ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে Distinguished Engineer, অর্থাৎ “বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার”, রয়েছেন মাত্র শখানেক, আর এখন সেই দুর্লভ সন্মান আর স্বীকৃতির খাতায় যোগ হয়েছে একজন বাংলাদেশি। কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি আমার আজকের এই পোস্টটা করার সৌভাগ্য হবে। বহু পরিশ্রম করতে হয়েছে, জয় করতে হয়েছে বহু বাধা আর প্রতিকূলতা। সৃষ্টিকর্তা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী – সবার প্রতি জানাই অসংখ্য কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা।

পরিশেষে ছোট্ট একটা অনুরোধ রইল, দয়া করে কেউ যেন এই অর্জনকে না বুঝেই অন্য কোন কিছুর সাথে তুলনা করবেন না, বা আমার আরও কি অর্জন করতে হবে সেটা যেন বলবেন না। আমাদের সমাজে সন্তুষ্টি এবং পরিতৃপ্তির বড়ই অভাব। আমাদের চাওয়া পাওয়ার যেন কোন শেষ নেই। এমন বদভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে হবে। যেখান থেকে জীবন শুরু করে আজ আমি যেখানে এসে পৌঁছেছি, আলহামদুলিল্লাহ, এরপরেও যদি এতটা অর্জন আমার এই এক জীবনের জন্যে যথেষ্ট না হয় তাহলে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও নিশ্চয় নারাজ হবেন।

আমি নাহয় বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারদের সর্বোচ্চ অর্জনের ইতিহাসটা “গুগলের বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার” হওয়া পর্যন্ত এগিয়ে রেখে গেলাম। আশাকরি আমাদের আজকের প্রজন্মের লাখো কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের কেউ একজন একদিন সেটাকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অন্তত সেই স্বপ্নটা দেখায় তো আজ আর কারো কোন বাধা বা অনুপ্রেরণার অভাব থাকার কথা নয়, আর এটাই হয়তো আমার কাছে আমার এই অর্জনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

লেখক : ডিস্টিংগুইশড ইঞ্জিনিয়ার, গুগল

বাংলাদেশি যুবকের গুগল জয়ের গল্প

পটুয়াখালীর ছেলে প্রযুক্তি প্রকৌশলী জাহিদ সবুর। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জয় করলেন বিশ্বকে। তিনি হলেন গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। গত ২ মে তিনি পদোন্নতি পান।

২০০৭ সালে গুগলের ব্যাক অ্যান্ড সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ভারতের বেঙ্গালুরু অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন জাহিদ। ছয় মাস পর গুগলের ক্যালিফোর্নিয়ার অফিসে যোগদান করেন তিনি।

বিশ্বে গুগলের লক্ষাধিক কর্মীর মধ্যে ২৫০ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার কর্মরত রয়েছেন। যাদের মধ্যে জাহিদ সবুর একজন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে মেধা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সেরাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন জাহিদ সবুর। যোগ্যতার মানদণ্ডে বাঙালিরাও যে পিছিয়ে নেই তারই প্রমাণ গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিরেক্টর) পদে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া এই বাংলাদেশি।

জাহিদ সবুরের পিতা পটুয়াখালীর বাসিন্দা ড. মো. শাহজাহান সৌদি আরবে কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। সেই সূত্রে জাহিদের শৈশব কেটেছে সৌদি আরব। মা লুৎফুন্নেসা বেগম দেশ ছাড়ার আগে পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত ছিলেন। সৌদি আরব থেকে সাত বছর বয়সে দেশে ফিরে ঢাকায় অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেন জাহিদ।

ছোটবেলা থেকে শুধু পড়ালেখার মধ্যেই নিজেকে আটকে রাখেননি জাহিদ সবুর। স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেওয়া, ব্যাডমিন্টন খেলা, বোনের সংগ্রহের বাংলা বই পড়া আর বন্ধুদের সঙ্গেও দারুণ সময় কাটিয়ে উপভোগ করেছেন শিক্ষাজীবনকে।

মাধ্যমিকের সাদামাটা রেজাল্টের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে উদ্যোক্তাও হতে চেয়েছিলেন জাহিদ সবুর। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক পাস করেন জাহিদ। পেয়েছেন প্রায় সব একাডেমিক সম্মাননা। জাহিদ সবুর দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকেই ফুল স্কলারশিপে পড়ে ধারাবাহিকভাবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেই কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আর সিস্টেম ডিজাইন এসবের হাতেখড়ি। কোনো কিছু সৃষ্টির যে অপার আনন্দ, তা পুরোপুরিই উপভোগ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং পুরস্কারও জিতেছেন।

পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে জিআরইও দিয়েছিলেন তিনি। আমেরিকার সেরা ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টিতে আবেদন করে চারটিতে ডাক পান ফুল ফান্ডিংসহ স্কলারশিপের জন্য। কিন্তু সে মুহূর্তে গুগলে কাজ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি বলে ঢুকে পড়েন কর্মক্ষেত্রে। গুগলে কাজ শুরু করেন তৃতীয় গ্রেডে। অথচ এখন অষ্টম গ্রেডে জায়গা করে নিয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ভারতে কাজ করেছেন গুগলের ব্যাক অ্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানে সিস্টেম ডেভেলপার হিসেবে। এর ছয় মাস পর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তরে। এখন কাজ করছেন গুগলের জুরিখ দপ্তরে।

জাহিদ সবুরের সাফল্য থেকে বর্তমান তরুণরা শিক্ষা নিতে পারে, সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার দরকার নেই বরং অধ্যবসায় আর পরিশ্রমই পারে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। প্রযুক্তি খাতে জাহিদ সবুরের এই সাফল্য লক্ষ তরুণকে আগামীর পথ দেখাবে। দেশ যাবে এগিয়ে।

প্রকাশ : শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like