

সম্পাদকীয় …
বিএনপি পুরোনো রাজনীতির ধারা আঁকড়ে ধরে ক্ষমতায় এলে দুই বছরের বেশি টিকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম, যার অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসে রয়েছে উত্থান-পতনের চিত্র। তবে সাম্প্রতিক কালে দলটির পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মুখরিত বক্তব্য—”পুরোনো ধারা নিয়ে ক্ষমতায় এলে দুই বছরও টিকবে না বিএনপি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে দেশীয় রাজনীতিতে একটি মূল প্রশ্ন সামনে আসে: পুরোনো ধারা কি বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর, নাকি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অতীব জরুরি?

পুরোনো ধারার ব্যর্থতা ও এর ঐতিহাসিক পর্যালোচনা
বিএনপির রাজনৈতিক ধারা মূলত ১৯৯০ দশক থেকে শুরু করে ২০০০ দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে। দলটির শাসনকাল নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক থাকলেও, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনর্বিন্যাসে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌলিক পরিবর্তনের সাক্ষ্য দেখা যায় না। দুর্নীতির অভিযোগ, দলীয়করণের প্রবণতা, গণতান্ত্রিক অনুশীলনের সীমাবদ্ধতা—এসবই বিএনপির শাসনকালকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
এই ‘পুরোনো ধারা’ বলতে বোঝানো হয় সেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা যা নাগরিক অগ্রগতি, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক নীতির বিপরীতে অবস্থান করে। বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন ধারা যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
পরিবর্তনের দাবি: সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা
আজকের বাংলাদেশ তরুণ জনসংখ্যায় পরিপূর্ণ—a যারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রশাসন কামনা করে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং চিন্তাশীল ব্যতিক্রমী আলোচনার সঙ্গে যুক্ত। এই প্রজন্ম পুরোনো ধারার রাজনীতিকে ছাপিয়ে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্তের প্রতি আগ্রহী।
যদি বিএনপি পুরোনো ধারা আঁকড়ে ধরে আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে তাদের নীতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের অসংগতি সৃষ্টি হবে। ফলে দু’বছরের মধ্যেই জনঅসন্তোষ, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক অসামঞ্জস্যতা তাদের ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিতে পারে—যার ইঙ্গিত দেয় উপর্যুক্ত বক্তব্য।
বিএনপির সামনে সম্ভাব্য পথ: ধারা বদলে টিকে থাকার চেষ্টা
রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির একটি বড় দায়িত্ব হচ্ছে সময় ও জনগণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের রূপান্তর ঘটানো। এটি একদিনে সম্ভব নয়, তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞা থাকলে এর বাস্তবায়ন সম্ভব। দলীয় নেতৃত্বের কাঠামোতে নবীন-প্রবীণের ভারসাম্য, নীতির উন্নয়ন, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবা—এসবই বিএনপিকে নতুন ধারায় রূপান্তর করতে পারে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো, শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা নয়; বরং সেই ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। যদি তারা পুরোনো ধারা পরিত্যাগ করে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রূপ নেয়, তাহলে টিকে থাকা সম্ভব।
সামাজিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির একধরনের পুনর্জন্ম চলছে। জনগণ শুধু বক্তব্যে নয়, কার্যকর পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী। তরুণ সমাজ রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়, সংবেদনশীল এবং যুক্তিযুক্ত। ফলে বিএনপির সামনে দুটি পথ: এক, তারা পুরোনো ধারা বজায় রাখবে এবং সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতায় ভুগবে; দুই, তারা ধারা বদলে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠবে।
বক্তব্যটি তাই শুধু একটি রাজনৈতিক অভিমত নয়—এটি একটি সতর্কবার্তা, একটি সম্ভাবনার আভাস এবং রাজনৈতিক পটভূমির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অন্তর্দর্শন।
শনি বার, ১২ জুলাই ২০২৫
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শেয়ার করুন




