

মালিকুজ্জামান কাকা :
আলো ছড়িয়েছে বেশ সামাজিক সংগঠন উদ্যম।
অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে খেজুরগাছ কম
দেখো ওদের হয়েছে আজ শুভ দারুণ বোধোদয়
নিশ্চয় সবুজ বৃদ্ধি আর প্রতিরোধ অক্সিজেন ক্ষয়
এমন মানুষ পাওয়া দায় অপ্রিয় খেজুর জিরেন রস
গুড় পাটালি পায়েস ক্ষীর পিঠা রস যে বাংলার যশ
তোমায় আজ বাংলার সবুজ প্রেমীদের ধন্যবাদ
আর ওদের ধিক যারা সবুজ গাছ করে বরবাদ
নতুন দিন সূর্যাভায় আসছে গাছের চারা রোপন
ঘরে ঘরে শুরু হোক আগামী প্রজন্মের চারা বপন
ওহে বাছা তোমায় জানায় আন্তরিক শুভ্র শুভেচ্ছা
তাজা গোলাপ পদ্ম রজনীগন্ধা শিমুল পলাশ আচ্ছা

কৃষক গাছি ওদের রক্ষায় আরো হোক যথা প্রকল্প
মনে রেখো সেটি ভয়ানক যদি ওরা হয় ইতিহাস গল্প
ধন্যবাদ উদ্যমের আহ্বায়ক রিশাদ হাসান বিপ্পি
কর্ম তোমার সদলে স্মার্ট সতেজ কৃষিজ হেব্বি
আগামী দিনে বঙ্গ জুড়ে খেজুর হোক কৃষি শিল্প
তোমাদের যাত্রায় আছে শখ তিম ইমন বাবু তিল্প
বেশি রস দেবে সাথে রবে জিরেন আহামরি স্বাদ
নলুনে গুড় খাঁটি পাটালি কম তার বর্জ্য যা গাঁদ
এ যাত্রায় সাধু ক্ষেত্র হোক বাংলায় সকল গ্রাম
সাথে বজ্র রোধক তাল গাছের চারা হ্যা আরাম
বজ্রপাতে কৃষক মারা পড়ছে নয় খবর ভালো
উদ্যম ওহে বাছা তুমি ছড়িয়েছো জোর আলো
গ্রাম শহর সর্বত্র আছে সরকারি ছোট বড় রাস্তা
ঘরে ঘরে তৈরি হোক সবুজ কর্মী ও সেচ্ছাসেবী
গাছের আর উদ্যোক্তার নিরাপত্তা সরকারে দাবী
যশোরের কৃষি হোক ইতিহাস, সংস্কৃতি অর্থনীতি
কেঁটে যাক ধারাবাহিক লোকসানের শঙ্কা ভীতি
স্বল্প জমিতে বেশি চাষ প্রবর্তন হেথা স্মার্ট কৃষি
টেকসই সুখ সবুজ কর্মীর পরিবারে দিবা নিশি
একটি খেজুর গাছে দিনে ২০ লিটার যদি রস
হবে মানুষ খেজুর গাছ রস শিল্পে নিশ্চয় বশ
নিষেধ হোক ইট ভাটায় পোড়ানো হ্যা খেজুর গাছ
এভাবেই এতদিন হয়েছে বাংলায় খেজুর সর্বনাশ
আজ উদ্যম তারা প্রকল্প গড়বে গর্বে রোধ বিনাশ।
তীব্র প্রতিরোধ ওদের কেন তোরা কৃষি জমি খাস
এত ক্ষতি অপকর্মে তবু কেন নেই অপকর্মে লাজ
উদ্যম সাথে উদ্যোমী হয়ে বাঙালি ঠেকাও অকাজ।
শুভ সবুজ সূর্য প্রভাতে বর্তমান সুখী দীপ্ত একরাশ
রাস্তার দুই ধারে খেজুর গাছ সাথে মাঠে কৃষিজ চাষ
এভাবেই আগামী দিন বঙ্গে অপূর্ব কৃষিময় ১২ মাস।
বৃহত্তর যশোরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস। এই বাস্তবতায় যশোর জেলার খেজুরগাছ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ২০ লাখ খেজুর বীজ বপনের বৃহৎ কর্মসূচি উদ্বোধন হয়েছে।
যশোর জেলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সামাজিক সংগঠন ‘উদ্যাম’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয় সদর উপজেলার কনেজপুর ও নিমতলা সড়কের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায়।
৭ জুন / ২০২৬ সোমবার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দেশসেরা কৃষি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার চক্রবর্তী, উদ্যামের আহ্বায়ক রিশাদ হাসান বিপ্পি, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, দুই সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন সরকারি পতিত জমি এবং সড়কের দুই পাশে খেজুর বীজ বপন করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, খেজুরগাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের উৎপাদন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে উদ্যামের সদস্য সচিব জানান, আশঙ্কাজনক হারে কমছে খেজুরগাছ ও গাছি। গত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার খেজুরগাছ এবং দেড় হাজার গাছি কমে গেছে। এতে বছরে প্রায় ৫৫ লাখ লিটার খেজুরের রস উৎপাদন কমেছে। ফলে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, খেজুরগাছ শুধু গাছ নয়, এটি যশোরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে খেজুর বীজ বপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তী কয়েক বছরে জেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পাবে। খেজুর রস ও গুড় উৎপাদন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
















