চট্টগ্রামে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, দুটি ছেলে তিনটি মেয়ে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমির তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামের পিপলস হাসপাতালে শিশু পাচঁটির সুস্থভাবে জন্ম হয়। ছবি: খবরের কাগজ
এক দশক আগে সাতকানিয়ার ওয়াহিদুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে বিয়ে হয় এনি আক্তারের। দীর্ঘ এই সময় নিঃসন্তান থাকার পর এক সঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিলে এনি আক্তার। চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।

ওই হাসপাতলের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি খবরের কাগজকে জানান, সুমন-এনি দম্পতি প্রায় এক দশক সন্তানহীন ছিলেন। তারা আমার কাছে এলে প্রথমে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করি। পরে ইন্ট্রাউটেরাইন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) পদ্ধতিতে এনি আক্তার গর্ভধারণ করেন।

তিনি জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা জানতে পারি এনি আক্তার চারটি সন্তান গর্ভধারণ করেছেন। একসঙ্গে চার সন্তানকে মায়ের গর্ভে সুস্থভাবে বড় করা ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সোমবার বিকাল ৪টায় পিপলস হাসপাতালে ভর্তি হন এনি আক্তার। এর আধা ঘণ্টা পর অস্ত্রপাচার শুরু হয়। ৩২ সপ্তাহ পর আজ সিজার করে যখন একের পর এক চারটি শিশু বের করি, পরে দেখি সেখানে আরও একজন রয়েছে। শেষেরজন ছেলে শিশু। ওজন ১৫০০ গ্রাম। পাঁচ নবজাতকের মা এনি আক্তারকে আমি বলেছি, এটা আপনার বোনাস। আল্লাহ আপনাকে এই ছেলেকে বোনাস হিসেবে দিয়েছেন।

চিকিৎসক ফরিদা জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুগুলো প্রিম্যাচ্যুর। এর মধ্যে একটা বাচ্চার ওজন ১৬০০ গ্রাম, একটি ১৫০০, আরেকটি ১৪০০ গ্রাম এবং বাকি দুটি ১ কেজি। এক কেজি ওজনের কন্যা শিশু দুইটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সঠিক পরিচর্যা পেলে এবং আল্লাহ চাইলে পাঁচটি শিশুই বেঁচে যাবে।

বর্তমানে মা এনি আক্তার পিপলস হসপিটালে চিকিৎসাধীন আছেন। নবজাতকগুলোকে নগরের পার্কভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। পার্কভিউ হাসপাতালে এনির শ্বাশুড়ি নুর নাহার ও তার ছেলে ফরিদুল আলম রয়েছেন। সুমন রয়েছেন স্ত্রীর সঙ্গে পিপলস হসপিটালে।

নবজাতকদের চাচা ফরিদুল আলম বলেন, এক দশক পর তার ভাই ও ভাবীর কোলজুড়ে ৫ সন্তান এসেছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। চিকিৎসকদের আন্তরিকতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

০৮  ডিসেম্বর ২০২৫,  সোমবার, 

You might like

About the Author: priyoshomoy