অজুর পর মূত্র ফোঁটা বেরিয়েছে মনে হলে যা করবেন: শরিয়তের স্পষ্ট নির্দেশনা

ইসলাম ডেস্ক :

অজু ইসলামী জীবনের একটি মৌলিক ইবাদত। নামাজের পূর্বশর্ত হিসেবে অজু শুধু শারীরিক পরিচ্ছন্নতার প্রতীক নয়, বরং আত্মিক প্রস্তুতিরও অংশ। তবে অনেক সময় মানুষ অজু করার পর মনে করে যে মূত্রের ফোঁটা বের হয়েছে বা সামান্য নাপাকী লেগেছে। এ অবস্থায় শরিয়তের নির্দেশনা কী, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই ফিচারে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব অজুর পর মূত্র ফোঁটা বের হওয়ার সন্দেহ বা বাস্তবতা নিয়ে ইসলামী শরিয়তের বিধান, আলেমদের ব্যাখ্যা, এবং মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রয়োগ।

অজুর গুরুত্ব
– অজু ছাড়া নামাজ কবুল হয় না।
– কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “হে ঈমানদারগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, মাথা মাসেহ করো এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে নাও।” (সূরা মায়িদা: ৬)
– অজু শুধু নামাজের জন্য নয়, কুরআন তিলাওয়াত, তাওয়াফ, দোয়া ইত্যাদির জন্যও সুন্নত বা আবশ্যক।

মূত্র ফোঁটা বের হওয়ার সন্দেহ
অনেক সময় মানুষ অজু করার পর মনে করে যে মূত্রের ফোঁটা বের হয়েছে। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে অজু ভঙ্গ হয় না।
– সন্দেহের উপর শরিয়ত কোনো হুকুম দেয় না।
– রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যখন কেউ নামাজে থাকে এবং মনে করে যে সে কিছু শুনেছে বা অনুভব করেছে, তবে সে যেন না বের হয় যতক্ষণ না স্পষ্ট শব্দ শুনে বা গন্ধ পায়।” (সহিহ মুসলিম)
– অর্থাৎ শুধু মনে হওয়া বা সন্দেহের কারণে অজু ভঙ্গ হবে না।

 বাস্তবে মূত্র ফোঁটা বের হলে
যদি নিশ্চিতভাবে দেখা যায় যে মূত্রের ফোঁটা বের হয়েছে, তবে অজু ভেঙে যাবে।
– মূত্র, পায়খানা, গ্যাস—সবই অজু ভঙ্গকারী।
– এ অবস্থায় পুনরায় অজু করতে হবে।
– কাপড়ে বা শরীরে নাপাকী লাগলে তা পরিষ্কার করতে হবে।

ইস্তিনজা ও ইস্তিবরা
অজুর আগে মূত্রত্যাগের পর ইস্তিনজা করা ফরজ। ইস্তিবরা হলো মূত্রত্যাগের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা বা হেঁটে নেওয়া যাতে মূত্রের ফোঁটা বের হয়ে যায়।
– ইস্তিনজা: পানি দিয়ে মূত্রস্থল পরিষ্কার করা।
– ইস্তিবরা: মূত্রত্যাগের পর নিশ্চিত হওয়া যে আর কোনো ফোঁটা বের হবে না।
– এভাবে সতর্ক থাকলে অজুর পর মূত্র ফোঁটা বের হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

মূত্র ফোঁটা বের হওয়ার রোগ
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত মূত্র ফোঁটা বের হয়। একে বলা হয় “সালসুল বাওল” বা প্রস্রাবের অসংযম।
– এ অবস্থায় শরিয়তের বিশেষ বিধান আছে।
– যদি নিয়মিত ফোঁটা বের হয় এবং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হয়, তবে প্রতিটি নামাজের সময় নতুন অজু করতে হবে।
– কাপড়ে নাপাকী লাগলে তা পরিষ্কার করতে হবে, তবে অতিরিক্ত কষ্ট হলে শরিয়ত সহজীকরণ করেছে।

আলেমদের মতামত
– হানাফি মাজহাব: সন্দেহে অজু ভঙ্গ হয় না, নিশ্চিত হলে ভঙ্গ হয়।
– শাফেয়ি মাজহাব: একই মত, তবে তারা ইস্তিবরার উপর বেশি গুরুত্ব দেন।
– মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবও একইভাবে সন্দেহকে গুরুত্ব দেন না।

দৈনন্দিন জীবনে করণীয়
১. মূত্রত্যাগের পর ভালোভাবে ইস্তিনজা করুন।
২. কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন বা হেঁটে নিন যাতে ফোঁটা বের হয়ে যায়।
৩. অজু করার পর যদি শুধু মনে হয়, তবে নামাজ চালিয়ে যান।
৪. নিশ্চিত হলে অজু পুনরায় করুন।
৫. রোগ থাকলে প্রতিটি নামাজের সময় নতুন অজু করুন।

মানসিক দিক
অনেক সময় শয়তান মানুষকে সন্দেহে ফেলে।
– বারবার মনে হয় অজু ভেঙে গেছে।
– এ অবস্থায় দৃঢ় থাকতে হবে।
– সন্দেহকে গুরুত্ব না দিয়ে নামাজ চালিয়ে যেতে হবে।

অজুর পর মূত্র ফোঁটা বের হয়েছে মনে হলে শরিয়তের নির্দেশনা হলো:
– শুধু সন্দেহে অজু ভঙ্গ হবে না।
– নিশ্চিত হলে অজু ভেঙে যাবে।
– নিয়মিত রোগ থাকলে প্রতিটি নামাজের সময় নতুন অজু করতে হবে।
– ইস্তিনজা ও ইস্তিবরা মেনে চললে এ সমস্যার সম্ভাবনা কমে যায়।

প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy