

জিল্লুর রহমান :
সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে গ্রামীণ জীবনে হরেক মালের ফেরিওয়ালাদের কদর কমেনি। সংসার চালাতে অনেকেই হরেক রকমের মালামাল ফেরি করে বিক্রি করছেন।

গ্রামাঞ্চলের নারী ও শিশুদের কাছে কানের দুল, গলার চেইন, হাতের চুড়ি, মাথা আঁচড়ানোর চিরুনি, চুল বাঁধার ফিতা, চুলের ক্লিপ, মাথার ব্যান্ড, নখপালিশ ইত্যাদি পণ্যের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, শহরের দোকানের তুলনায় হরেক মালের ফেরিওয়ালাদের পণ্যের দাম অনেক কম।
বাস্তবে দেখা যায়, মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাপপুর হিন্দু পাড়ার কয়েকজন গৃহবধূ হরেক মালের দোকান থেকে কানের দুল, চুড়ি ও মালা কিনছেন। পৌষার গ্রামের শেফালী কাঞ্চনী, দিপালী কাঞ্চনেসর ও রোজিনা খাতুন বলেন—
“আমরা শহরে কেনাকাটা করতে যাই না। ওসব দোকানের জিনিসপত্রের দাম বেশি। তাই বেশিরভাগ সময় হরেক মালের দোকান থেকে দরকারি জিনিসপত্র কিনে নেই। শহরে যাওয়ার পরিবহন খরচ বাঁচিয়ে ঘরে বসেই কেনাকাটা করা যায়।”
তাড়াশ উপজেলার প্রায় ১৫–২০ জন ফেরিওয়ালা বগুড়া ও উল্লাপাড়া থেকে পাইকারি দরে মালামাল কিনে এনে গ্রামে বিক্রি করেন। এসব বিক্রি করে তারা মাসে প্রায় ১২–১৫ হাজার টাকা আয় করেন, যা দিয়ে সংসার ঠিকঠাক চলে যায়।
প্রতিদিন সকাল হলেই তারা ছুটে যান এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। ছোট মাইকে হাঁক ডাক শোনা যায়—
“হরেক মাল নিবেন, হরেক মাল!”
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মতামত
তাড়াশ পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর প্রভাষক বলেন—
“মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু হরেক মালের কদর কমেনি। গ্রামীণ জীবনে হরেক মালের গুরুত্ব আগেও ছিল, এখনো রয়েছে।”
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে হরেক মালের ফেরিওয়ালারা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তারা শুধু সস্তা দামে পণ্য সরবরাহ করেন না, বরং গ্রামীণ নারীদের জন্য সহজলভ্য বাজার তৈরি করেন।
– অর্থনৈতিক দিক: মাসে ১২–১৫ হাজার টাকা আয় করে তারা পরিবার চালান।
– সামাজিক দিক: নারীরা শহরে না গিয়ে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারেন।
– সাংস্কৃতিক দিক: গ্রামীণ জীবনে গয়না ও সৌন্দর্যচর্চার সামগ্রী নারীদের কাছে সবসময় জনপ্রিয়।
এভাবে হরেক মালের ফেরিওয়ালারা গ্রামীণ অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন।
প্রকাশিত : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
















