

সফিকুল ইসলাম রানা
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর পুরুষশূন্য বাড়িতে বৃদ্ধা পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১২ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ হালিমা আক্তার ও প্রতিবেশী আশরাফুল ইসলাম মিঠুন (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে নতুন হাপানিয়া গ্রামে পারুল বেগমের বাড়ির সামনে বেরিবাঁধের ওপর মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন গ্রামবাসী। এতে শতশত নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার বেগম, মোশাররফ প্রধান, ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম, বোরহান উদ্দিন রিপন মেম্বার, জসিম ভূঁইয়া মেম্বার, আব্দুর রহিম প্রধান, হাসান প্রধান, শাহাদাত হোসেন ও শাহানাজ আক্তার’সহ অনেকে।
নুরুন্নাহার বেগম বলেন, আমার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই নৃশংস হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে আমাদের পরিবার কোনোভাবেই ন্যায়বিচার পাবে না।
মানববন্ধনে বক্তারা একত্রে বলেন, এটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দ্রুত চার্জশিট দিয়ে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে রবিবার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব জানান, প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতি বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে অসংগতি ধরা পড়ে। হালিমার বক্তব্যে অসামঞ্জস্য থাকায় তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, প্রায় আট মাস আগে হালিমা প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক মিঠুনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান। আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার রাতে মিঠুন গোপনে বাড়িতে প্রবেশ করে। স্বর্ণালংকার নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি পারুল বেগমের বুকের ওপর চেপে বসে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পুরো ঘটনাটি হালিমা প্রত্যক্ষ করেন। পরে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে সাজাতে তার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার দুইজনকে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশিত : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬খ্রি.














