

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত, বাংলা ভাষার প্রথম নারী জাগরণের মুখপত্র ঐতিহাসিক ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম স্মরণে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে প্যাপিরাস পাঠাগার। শুক্রবার ৫ জুন বিকেল টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ প্যাপিরাস পাঠাগার কার্যালয়ে এ আড্ডার আয়োজন করা হয়।

পাঠাগারের সভাপতি ও বাঁশি উৎসবের রূপকার অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণির সভাপতিত্বে, প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপনের সঞ্চালনায় কিংবদন্তি সম্পাদক নূরজাহান বেগম-এর ‘জীবন ও কর্ম’ সম্পর্কে আলোচনা করেন, চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির উপ-মহাপরিচালক নন্দিতা দাস, বংশিবাদক বেলাল শেখ, আবৃত্তিশিল্পী আমির হোসেন বাপ্পি, পাঠাগারের উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, উপ-সভাপতি ফেরারী প্রিন্স, ভাসানী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম রাজিব, সাহিত্যানুরাগী সবিতা ও ফরহাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে নূরজাহান বেগমের সম্মানে সংগীত পরিবেশন করেন বিটিভির নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী নন্দিতা দাস এবং কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আমির হোসেন বাপ্পি ।
বাঁশি উৎসবের রূপকার অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, বেগম পত্রিকা ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করলেও, ১৯৫০-এর দিকে স্থানান্তরিত হয়ে এর কার্যালয় ঢাকায় চলে আসে এবং নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। তৎকালীন নারী সমাজের সুখ-দুঃখের চিত্র এতে গুরুত্ব পায়। কুসংস্কার বিলোপ, গ্রামাঞ্জলের নির্যাতিত নারীদের চিত্র, জন্মনিরোধ, পরিবার-পরিকল্পনা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের জীবন সংগ্রাম সম্পর্কৃত চিঠি ও গুরুত্বপূর্ণ মনীষীদের বাণী এতে প্রধান্য পেতে থাকে। ধীরে ধীরে এটি মানুষের মনে ঠাঁই পেতে থাকে। শুরুর দিকে পত্রিকাটি বেগম সুফিয়া কামালের সম্পাদনায় বের হলেও পরবর্তীতে নূরহাজান বেগমের হাতেই প্রাণ পায় ঐতিহাসিক এই পত্রিকা।
তিনি আরও বলেন, নূরজাহান বেগম ছিলেন চাঁদপুরের কৃতিসন্তান। তিনি ঐতিহাসিক সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা। সওগাতের প্রেস থেকেই পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো। মূলত সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের হাতেই পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
অনুষ্ঠানে মহীয়সী নারী নূরজাহান বেগম-এর ‘জীবন ও কর্ম’ সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা। সব শেষে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়।
















